ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চোখের সামনে বোন মার খাওয়ায় কাতর আফঈদা

চোখের সামনে বোন মার খাওয়ায় কাতর আফঈদা
×

জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদার বোন আফরা (নীল গ্লাভস)।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫ | ১১:২৪

‘সাবাশ সাবাশ’, ‘মার, মার মার’– গ্যালারিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে বোনের জন্য এভাবেই গলা ফাঁটাচ্ছিলেন নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। বক্সিং রিংয়ে বড় বোন আফরা খন্দকার লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জিনাত ফেরদৌসের সঙ্গে। 

বৃহস্পতিবার বাফুফেতে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই বোনকে উৎসাহ দিতে আফঈদা চলে আসেন মোহাম্মদ আলী বক্সিং রিংয়ে। গ্যালারিতে আফঈদা আর বাবা-মায়ের উৎসাহে জিনাতের সঙ্গে তিন রাউন্ড পর্যন্ত লড়েছেন আফরা। তবে পেরে ওঠেননি। 

বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবার খেলতে নেমেই সোনার হাসি হেসেছেন জিনাত। গতকাল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৫-০তে আফরাকে হারিয়ে ৩১ বছর বয়সী এ বক্সার বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কতটা এগিয়ে। পাঁচজন বিচারকের রায়ে তিন রাউন্ডেই জিতেছেন জিনাত। 

জিনাতের কারণে বক্সিংয়ের এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে আগ্রহ ছিল সবার। বৃষ্টির মধ্যেও এদিন বক্সিং স্টেডিয়ামে ছিল দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। সবার চোখ ছিল জিনাত ও আফরার লড়াইয়ের দিকে। তবে আফরা সেভাবে ফাইট দিতে পারেননি। অন্যদিকে জিনাত ছিলেন আক্রমণাত্মক। তাঁর পাঞ্চগুলো ছিল বিপজ্জনক। 
বোনের মার খাওয়া দেখে ভয় পেয়েছিলেন আফঈদা, ‘বোনকে মার খেতে দেখে খুব ভয় পেয়ে যাই। তার পরও খুশি তাঁর সঙ্গে যে তিন রাউন্ড খেলেছে আমার বোন। ভালো খেলেই হেরেছে।’

প্রতিপক্ষ নিয়ে ভয়ের কারণে আফরা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছেন। ম্যাচ শেষে সেটা স্বীকারও করেছেন তিনি, ‘হারা নিয়ে আক্ষেপ নেই। আমি চেয়েছিলাম তিন রাউন্ড তাঁর সঙ্গে ফাইট দিব, সেটা করতে পেরেছি তাতেই আলহামদুল্লিাহ। আক্রমণাত্মক খেললে অবশ্যই ভালো হতো, তবে আমার মনে হয়েছে ডিফেন্সিভ খেলাটা উচিত। কারণ আত্মরক্ষাটা আগে দরকার। আমি যেন নকআউট না হয়ে যাই, এই চেষ্টা ছিল। আর দর্শক আমাদের খেলাটা উপভোগ করুক সেটাই চেয়েছিলাম।’ 

জিনাতের সঙ্গে খেলতে নেমে আফরা বুঝতে পেরেছেন বাংলাদেশের বক্সাররা কতটা পিছিয়ে, ‘সে (জিনাত) বিদেশের মাটিতে যে প্র্যাকটিস সুবিধা পায়, তা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। যদি ওইরকম ভালো ফ্যাসিলিটিজ পাই, তাহলে আমরাও ভালো করব।’

এতদিন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক আসরে খেলেছেন জিনাত। ঢাকায় প্রথমবার খেলতে নেমে নিজেকে মেলে ধরেছেন। এত দর্শক দেখে উচ্ছ্বসিত এ বক্সার, ‘এত মানুষ এখানে আসছে, আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছে খুবই ভালো লাগছে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে খেলে সেরা হয়েছি, আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’ প্রতিপক্ষ আফরা টেকনিকে যে পিছিয়ে, তা ফুটে উঠেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘অনেকে ফাইট করার সময় হাল ছেড়ে দেয়; কিন্তু সে (আফরা) হাল ছেড়ে দিতে চাচ্ছে না। বরং কোচ দিয়ে ওদের টেকনিক নিয়ে কাজ করা উচিত।’
 
আক্রমণাত্মক বক্সিং খেলা জিনাতের চোখ আরও দূরে, ‘আগামী বছর অনেক বড় টুর্নামেন্ট আছে। এসএ গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমস আছে। সেগুলোতে খেলে দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে চাই।’ 

আরও পড়ুন

×