সাক্ষাৎকারে আমিরুল
পরের স্বপ্ন সিনিয়র বিশ্বকাপ খেলা
সাখাওয়াত হোসেন জয়
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৪
দুই ম্যাচে ৬ গোল। ভারতে আমিরুল ইসলামের জুনিয়র হকি বিশ্বকাপ কাটছে স্বপ্নের মতো। ফরিদপুর থেকে উঠে আসা এ ড্র্যাগ ফ্লিক স্পেশালিস্ট অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন। সিনিয়র বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখা আমিরুল ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে চেন্নাই থেকে জুনিয়র বিশ্বকাপসহ নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে। শুনেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়
সমকাল: বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই ম্যাচে ৬ গোল। নিশ্চয়ই অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে?
আমিরুল: এই ভালো লাগাটা বলে বোঝাতে পারব না। আমরা সবাই চেষ্টা করছি সর্বোচ্চটা দেওয়ার। আমার গোলের পেছনে সব অবদান সতীর্থদের। তাদের সহযোগিতা না পেলে পরপর দুটি হ্যাটট্রিক করতে পারতাম না। সত্যিটা যদি বলতে হয়, আমার কাছে এটা (দুটি হ্যাটট্রিক) স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। তবে যেভাবে অভিনন্দন পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে কিছু একটা করেছি।
সমকাল: সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই করে হার। তারপর কোরিয়ার সঙ্গে ড্র। দুটি ম্যাচের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?
আমিরুল: দুটি ম্যাচেই আমরা ভালো খেলেছি। আমি মনে করি, ম্যাচের রেজাল্ট আরও পজিটিভ হওয়া উচিত ছিল। ছোট ছোট দুর্বলতার কারণে আমরা ইতিবাচক ফল আনতে পারিনি। ম্যাচের ফল নিয়ে একেবারে সন্তুষ্ট না হলেও পারফরম্যান্স হিসাব করলে মনে করি ঠিক আছে।
সমকাল: জুনিয়র বিশ্বকাপে অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ কোথায় পিছিয়ে?
আমিরুল: আমরা ওদের চেয়ে টেকনিকে অনেক পিছিয়ে আছি। তারা হকির নতুন নতুন স্কিলগুলো আয়ত্ত করতে পারতেছে নিয়মিত খেলছে বলে। আমরা কিন্তু তাদের মতো জানতে পারছি না। যখন কারও সঙ্গে খেলি, তখন গিয়ে হকির নতুন টেকনিক বা স্কিল জানতে পারি।
সমকাল: স্কিলে উন্নতির জন্য কী করতে হবে?
আমিরুল: প্রথমত, আমি বলব আমাদের অবকাঠামো ঠিক করতে হবে। হকি খেলাটা নিয়মিত হচ্ছে না। ফেডারেশনও খেলাটা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করতে পারছে না। ঘরোয়া আর আন্তর্জাতিক– যেটাই বলেন আমাদের খেলা ঠিকমতো হচ্ছে না। দেখানোর জন্য শুধু দু-তিনটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ। আর অংশ না নিলে হয়তো এএইচএফ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসবে। নিয়মিত খেলা না হলে নতুন প্লেয়ার আসবে না। স্কিলের উন্নতির জন্য আমাদের নিয়মিত টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হবে। ঘরোয়া লিগ চালু রাখতে হবে। যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় মাপের কোচ আছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আর যদি সারা বছর একজন উপদেষ্টা কোচ থাকেন, তাহলে অনেক ভালো হয়।
সমকাল: প্রথমবার হকির বিশ্বকাপে খেলছেন। নিজের অভিজ্ঞতা কেমন?
আমিরুল: নতুন নতুন অনেক জিনিস শিখতে পারছি। অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের খেলা দেখে অনেক কিছু শিখেছি। আমাদের টার্গেট থাকে গোল না দিতে পারলেও গোল খাব না।
সমকাল: আপনার গোল করার স্টাইলে সবাই মুগ্ধ। নিজের গোলগুলো নিয়ে একটু বলেন।
আমিরুল: গোল করার স্কিলটা আমি রপ্ত করেছি কোচের (সিগফ্রাইড) কাছ থেকে। তিনি যেভাবে চাচ্ছেন, আমি চেষ্টা করছি সেভাবেই গোল করতে।
সমকাল: কোচের পরিকল্পনাগুলো আপনারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারছেন কিনা?
আমিরুল: আমরা অনেকটাই করতে পারছি। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছি বলে এই রেজাল্টটা হচ্ছে। যদি তাঁর প্ল্যান শতভাগ মাঠে প্রয়োগ করতে পারতাম, তাহলে খেলার ফল অন্যরকম হতো।
সমকাল: স্পন্সর না থাকায় হকির ইকুয়েপমেন্টগুলো কিনতে হয় খেলোয়াড়দেরই। এগুলো কিনতে আপনার সমস্যা হচ্ছে কিনা?
আমিরুল: এই সমস্যার মুখোমুখি আমি হয়নি। আমি চেষ্টা করি আমার ইকুয়েপমেন্টগুলো নিজেই কিনতে। এই জন্য আমি পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিই না। খেলে যা আয় করি, সেখান থেকে কিছু জমিয়ে রাখি। তা দিয়েই ইকুয়েপমেন্টগুলো কিনি।
সমকাল: এ নিয়ে কোনো হতাশা বা আক্ষেপ আছে কিনা?
আমিরুল: বাস্তবতা মানতে হবে। আমাদের ফেডারেশনের স্পন্সর সমস্যা আছে। অনেক বাধ্যবাধকতা আছে। তারা যথেষ্ট চেষ্টা করে। তাই এই বিষয়ে আমি খুব একটা ভাবি না। বলতে পারেন পারফরম্যান্সেই আমার সব মনোযোগ।
সমকাল: খেলোয়াড় হিসেবে আপনার স্বপ্নটা কী?
আমিরুল: জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। এখন আমার স্বপ্ন সিনিয়র বিশ্বকাপে খেলা। আমি যেহেতু দলে নিয়মিত খেলে যাচ্ছি, আমার ইচ্ছে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার হওয়া। আর সিনিয়র বিশ্বকাপ যদি খেলতে পারি, তখন অলিম্পিককে টার্গেট করতে হবে। আসলে অলিম্পিকে খেলার কথাটা তো বললেই হবে না। এর জন্য লাগবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ফেডারেশনের পদক্ষেপ আছে। তাদের একটা টাইট শিডিউল আছে। একটা ক্যালেন্ডার থাকবে। কিন্তু আমি যতদূর জানি আমাদের ফেডারেশনের কোনো ক্যালেন্ডারই নেই।
- বিষয় :
- আমিরুল ইসলাম
- হকি
