ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সব্যসাচী মোসাদ্দেকে কুপোকাত অস্ট্রেলিয়া

সব্যসাচী মোসাদ্দেকে কুপোকাত অস্ট্রেলিয়া
×

ওয়ানডেতে প্রত্যাবর্তনটাও দারুণ হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনের। মিরপুরে গতকাল মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও আলো কেড়েছেন মোসাদ্দেক। ১০ ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে মোসাদ্দেকের হাতে এ

 ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘কাম অন মুসা!’ মাঠের ভেতরে মোসাদ্দেক হোসেনকে উজ্জীবিত করার ডাক তাঁর জাতীয় দল সতীর্থদের। মুসা জেগে ওঠেন, লেখেন রানের গীতিকাব্য। চোখ ধাঁধানো বোলিংয়ে উইকেট শিকার আর ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ নেওয়া মুসাকে প্রকাশ করে ম্যাচের ত্রিভুবনে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– তিন বিভাগেই ছিল সাবলীল। দেখে মনে হচ্ছিল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচ খেলছেন; কয়েক দিন আগে যেমন খেলেছেন মিরপুরে। অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট পরাশক্তির বিপক্ষে হেসেখেলে ব্যাট করে গেছেন শেষ পর্যন্ত। ৭০ বলে হার-না-মানা ৮৬ রান, বোলিংয়ে দুই উইকেট ও একটি ক্যাচ নেওয়া ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স মোসাদ্দেকের। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পুরস্কারও পেলেন হাতেনাতে। চার বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমেই হলেন ম্যাচসেরা। এলেন, খেললেন এবং জয় করলেন মোসাদ্দেক। রাজসিক প্রত্যাবর্তনও বলতে পারেন একে। এককথায় সব্যসাচী মোসাদ্দেকে কুপোকাত হলো অস্ট্রেলিয়া। 

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি ছিল গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ম্যাচের নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। এই রান তাড়া করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। ৪২.২ ওভারে বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ হয় খেলা। বজ্রবিদ্যুৎ চমকাতে থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন উভয় দলের ক্রিকেটাররা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ডাকওয়ার্থ/লুইসের নিয়মে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি দ্বিতীয় জয়, দেশের মাটিতে প্রথম। কার্ডিফের পর মিরপুরে। বিদেশের পর দেশে, সেদিক থেকে ঐতিহাসিক জয়। 

পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও মিরপুরে খেলা হয়েছে ভালো উইকেটে। বৈষম্য করা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি স্পোর্টিং উইকেটেই খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা। প্রচণ্ড গরমে টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সাহস দেখায় কেবল ভালো উইকেটের কারণে। টস হারা শাপে বর হয় টাইগারদের। ১০ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙলেও দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ খেলেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই ছন্দে থাকা জুটি ইনিংস গড়ে। জুটিতে ৯১ বলে ৯৬ রান করেন দুজনে। ৪৪ বলে সাত চার ও এক ছয়ে ৫৪ রান তানজিদের। ৯ রানে জীবন পাওয়া শান্ত থামেন ৬৭ রানে। ৯টি চার ও এক ছয়ে ইনিংস সাজানো তাঁর। কিউইদের বিপক্ষে চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি (১০৫ রান) করা টেস্ট অধিনায়ক শান্ত অসম্ভব ধারাবাহিক, যেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। 
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দারুণ করা লিটন থিতু হতে পারেননি অসিদের বিপক্ষে। ৭ রানে আউট তিনি। ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারালে তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে জুটি গড়েন মোসাদ্দেক। ৯০ বলে ৭৫ রান দুজনের। হৃদয় ডট বেশি খেলে ৩১ রানে উইকেট হারালেও মোসাদ্দেক ব্যাটিংয়ে নিঃসঙ্গ শেরপা হয়ে শীর্ষে নিয়েছেন রানের চূড়া। সাতটি চার ও তিনটি ছয়ে ৭০ বলে খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ওয়ানডে ইনিংস। ১২২.৮৫ স্ট্রাইকরেটে অপরাজিত ৮৬ রান তাঁর। ৩০ বছর বয়সী সব্যসাচী এ ক্রিকেটারের আগের সেরা ছিল হার-না-মানা ৫১ রান। ২০১৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৭ বলে খেলেছিলেন ম্যাচজয়ী ইনিংস। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল ওই টুর্নামেন্টে। যদিও মোসাদ্দেকের গতকালের ইনিংসটি নিখুঁত নয়। ২১ রানে জীবন পান তিনি। ম্যাট র‍্যানশর বলে উড়িয়ে মেরেছিলেন, লংঅন ফিল্ডার কানোলির হাতেও গিয়েছিল; কিন্তু গ্রিপ করতে না পারায় বেঁচে যান মোসাদ্দেক। 

অস্ট্রেলিয়া ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উইকেট হারায় শুরুতে। ওপেনিং জুটি ভেঙে রানের খাতা খুলতে দেননি তাসকিন আহমেদ। তাঁর শিকার ম্যাথু শর্ট। মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা ২ উইকেট তুলে নিলে এলোমেলো হয় অসিরা। সেখানে কুপার কনোলির উইকেট নিয়ে চাপে ফেলেন মোসাদ্দেক। মিডল অর্ডারে ৪৯, ৪০ ও ৩৭ রানের জুটি হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকে সফরকারীরা। পরে নাহিদ রানা পালা করে উইকেট নিলে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। শেষ উইকেটের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার আগেই বজ্রবিদ্যুৎ চমকালে খেলা বন্ধ হয়, যা পরে আর শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন

×