ইনিংস ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য ছিল শান্তর
ছবি- এএফপি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৪৮
নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে চার বছর আগে টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিলেন মুমিনুল হকরা। এবার অস্ট্রেলিয়ায় হলো বাজিমাত। ডারউইন টেস্টে অসিদের হারিয়ে ইতিহাস গড়েন নাজমুল হোসেন শান্তরা। টানা চার দিন দাপুটে ক্রিকেট খেলে পাওয়া ৯ উইকেটের জয় দেশের মানুষের জন্য টাইগারদের উপহার। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টেও জয়ের ধারাবাহিকতা রাখতে চান।
প্রশ্ন: এই জয়টা কি বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?
শান্ত: আমার কাছে তাই মনে হয়। তিন সংস্করণ মিলিয়ে আমাদের অনেক বড় বড় জয় আছে। তবে আমি বলব, এটা সেরা সাফল্য। এর পেছনে ছিল অনেক পরিশ্রম। আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয় বড় জয় এটি।
প্রশ্ন: এখনও এক দিন সময় আছে। এই এক দিন কীভাবে কাটাবেন?
শান্ত: অনেক বড় সাফল্য, উদযাপন করা উচিত। এ ধরনের সাফল্য আমাদের ক্রিকেটে খুব কম আসে। আমার মনে হয়, পুরো দিনটা খুব ভালোভাবে সবার উপভোগ করা উচিত।
প্রশ্ন: পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন, সেখানে চার দিনে জয় পেলেন।
শান্ত: আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। অবশ্যই পাঁচ দিন ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা ছিল। প্রতিটি সেশনে সেরা ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা করেছিলাম। তবে প্রথম দিন থেকে আমরা যেভাবে খেলেছি, তা গর্বের। সবার পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। ভালো দিক হলো, চার দিনই ভালো ক্রিকেট খেলেছি আমরা।
প্রশ্ন: আপনার চোখে ম্যান অব দ্য ম্যাচ কে?
শান্ত: আমার ম্যান অব দ্য ম্যাচ বাংলাদেশ দল। এই দলের সবাই কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছে। আমার কাছে তানজিদের প্রথম ১০০ করা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বিশাল অর্জন ওর জন্য। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে সেঞ্চুরি পেয়েছে। মিরাজ এ রকম আগেও করেছে। এই কন্ডিশনে ও যেভাবে ব্যাটিং-বোলিং করেছে, তা অসাধারণ।
প্রশ্ন: ২২৮ রানের লিড পেয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য ছিল?
শান্ত: অবশ্যই। অনেক বড় একটা সংগ্রহ ছিল ২২৮ রান। আমাদের যে বোলিং লাইনআপ, তাতে বিশ্বাস ছিল সুযোগ পেলে ওই রানের আটকে দেব। হ্যাঁ, ক্যামেরুন গ্রিন খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। উইকেটে বোলারদের জন্য খুব বেশি হেল্প ছিল না। শেষের দিকে মিরাজ খুব ভালো বোলিং করেছে। দিনশেষে জিততে পেরেছি, এটা বড় ব্যাপার।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা নিয়ে একটু জুজু কাজ করে। এই জয়ে জুজু কতটা কেটে গেল?
শান্ত: অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশন অস্বীকার করার কিছু নেই। সব মিলিয় তারা অনেক ভালো দল। এই সিরিজের আগে আমরা আলোচনা করেছি– আমরা অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগ পাই না। ব্যাটিং বা বোলিংকে ভয় না পেয়ে উপভোগ করতে বলা হয়েছিল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্মান আদায় করে নেওয়ার বার্তা ছিল। আমার মনে হয়, সবাই চার দিন খেলাটা উপভোগ করেছে।
প্রশ্ন: দেশ থেকে কার কার ফোন পেলেন?
শান্ত: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমাদের শরীরের খোঁজখবর নিয়েছেন, ভালো আছি কিনা। আমাদের বোর্ড সভাপতি ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি অনেক খুশি। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফোনে অভিবাদন জানিয়েছেন। এই মোমেন্টগুলো বিশেষ ছিল। আমি মনে করি, এই জয়টা সবাই উপভোগ করেছে এবং দেশের মানুষ অনেক খুশি।
প্রশ্ন: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের সম্ভাবনা দেখেন?
শান্ত: পয়েন্ট টেবিল দেখলে অবশ্যই সুযোগ আছে। আমি অধিনায়ক হিসেবে বেশি দূরের চিন্তা করতে নিষেধ করি। সিরিজ বা ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করতে বলি। হ্যাঁ, এটা অনেক বড় জয়। তবে আমরা এখনও ওই রকম দল হয়ে উঠিনি। যে সুযোগগুলো আসবে, সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে ওই জায়গায় যাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন: ম্যাচ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটাররা অনেক কথা বলেছেন। সেগুলো আপনাদের তাতিয়ে দিয়েছিল কি?
শান্ত: কথাবার্তা হবেই। এর আগেও হয়েছে। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাজ হলো, ভালো ক্রিকেট খেলা। ভালো খেললে সব সময় ভালো কথা হবে। খারাপ খেললে খারাপ কথা হবে। বাইরের জিনিসগুলো মাথায় না নেওয়া।
প্রশ্ন: এই জয়ে বিশ্বকে কি বার্তা দেওয়া গেল?
শান্ত: অবশ্যই! আমার মনে হয়, বিশ্বক্রিকেটকে একটা বার্তা দিতে পেরেছি। আমরা যে কোনো কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য রাখি। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে এ রকম কন্ডিশনে বেশি বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। ওই সুযোগটা পেলে স্কিল দেখাতে পারব। এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা বাড়বে। আশা করব, এই জয় ভালো একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে এবং আমাদের এ রকম কন্ডিশনে খেলার জন্য ডাকবে।