বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ক্রিকেট উৎসব শুরু আজ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩৫
উৎসবের বাতাবরণ তৈরি হয়ে গেছে উদ্বোধন অনুষ্ঠান দিয়েই। অপেক্ষা ছিল মাঠের
খেলা শুরুর। আজ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও সিলেট থান্ডারের উদ্বোধনী ম্যাচ
দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ শুরু হচ্ছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট ঘুরে ৩৯ দিনের এই ক্রিকেট উৎসবে লড়বে সাতটি দল।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর দেড়টায় শুরু হবে প্রথম ম্যাচ। এ
ভেন্যুতেই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রেঞ্জার্স খেলবে
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ।
বিপিএলই দেশের একমাত্র টি২০ ক্রিকেট লিগ, যেখানে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে
থাকেন ক্রিকেটাররা। ভালো সম্মানী দেওয়ায় এই টুর্নামেন্টটি উৎসবের রং এনে
দেয় খেলোয়াড়দের মধ্যে। টিভিতে খেলা সম্প্রচার হওয়ায় প্রতিভাবান
ক্রিকেটারদের চেনানোরও একটা মঞ্চ বিপিএল। তাই এই টুর্নামেন্ট ঘিরে ৪০ থেকে
৪৫ দিন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের মিলন মেলায় পরিণত হয় বাংলাদেশ। যেমন
রাজধানী ঢাকা এখন ক্রিকেটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন
দেশের ক্রিকেটাররা এসে যোগ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু বিপিএলকে সফল করে তুলতে। তবে
এবারই প্রথম বিপিএল খেলতে পারছেন না সাকিব আল হাসান। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা
থাকায় মাঠেও আসতে পারবেন না। এ ছাড়া সবাই আছেন এই আসরে। মাশরাফি বিন
মুর্তজা আর তামিম ইকবাল খেলবেন ঢাকায়। মুশফিক খেলবেন খুলনার হয়ে,
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ চট্টগ্রামে, মুস্তাফিজ রংপুরে, সৌম্য সরকার কুমিল্লার
হয়ে মাঠে নামবেন। গত ছয় আসরের চেয়ে এবারের বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্ট একটু
আলাদা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে
ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়াই হচ্ছে টুর্নামেন্ট। তবে সাত দলের ছয়টিতেই স্পন্সর
নেওয়া হয়েছে। দলের নামেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন- ঢাকা প্লাটুন, চট্টগ্রাম
চ্যালেঞ্জার্স, রাজশাহী রয়্যালস, সিলেট থান্ডার, খুলনা টাইগার্স, রংপুর
রেঞ্জার্স ও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। কুমিল্লা ছাড়া বাকি সবারই স্পন্সর পাওয়া
গেছে। প্রতিটি স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা করে নিচ্ছে
বিসিবি। বিনিময়ে স্পন্সরদের দল পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
খেলোয়াড়দের জার্সিতে নিজেদের বিজ্ঞাপন দেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ না হওয়ায় প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন করে পরিচালক টিম
ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকার টিম ডিরেক্টর গাজী গোলাম মুর্তজা,
চট্টগ্রামের জালাল ইউনুস, খুলনার খালেদ মাহমুদ সুজন, রংপুরের এনায়েত হোসেন
সিরাজ, কুমিল্লার নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সিলেটের তানজিল চৌধুরী। রাজশাহীর
টিম ডিরেক্টর ছিলেন এনায়েত হোসেন সিরাজ। আর আকরাম খান ছিলেন রংপুরের টিম
ডিরেক্টর। তিনিই রংপুর দলটাকে গুছিয়েছেন। তাই আকরাম খানকে রংপুরের সঙ্গেই
রেখে দেওয়ার ইচ্ছা সিরাজের। রংপুরের সঙ্গে থাকলে তাকে নতুন পদবি দেওয়া হবে।
আকরাম রাজি থাকলে রাজশাহী রয়্যালসের টিম ডিরেক্টর করে দেওয়ার পরিকল্পনা
আছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের। আজ রাজশাহীর টিম ডিরেক্টর ঠিক করা হবে বলে
জানান বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক।
বঙ্গবন্ধু বিপিএল স্পন্সর-নির্ভর হওয়ায় প্লেয়ার ড্রাফট থেকে নেওয়া
ক্রিকেটারদের সম্মানী দেবে বিসিবি। প্লেয়ার ড্রাফটের বাইরে থেকে যে ক'জন
দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটার নেওয়া হয়েছে, তারা সম্মানী পাবেন সংশ্নিষ্ট দলের
স্পন্সরদের কাছ থেকে। ড্রাফটের বাইরের খেলোয়াড়দের সম্মানী অনেক বেশি এবং
চুক্তির সময়ই সম্মানীর সিংহভাগ টাকা পেয়ে গেছেন তারা। ড্রাফটের বাইরের
ক্রিকেটারদের সম্মানীর জামিনদারও হবে না বিসিবি।
স্থানীয় আম্পায়ারদের সঙ্গে ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হোয়ার্ফ ও শ্রীলংকার
প্রগিথ রামবুকওয়ালাও বঙ্গবন্ধু বিপিএলে আম্পায়ারিং করবেন। আন্তর্জাতিক
মানের প্রডাকশন করতে সব ধরনের টেকনোলজিও ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু
বিপিএলে জুয়াড়িদের হাত থেকে বাঁচাতে প্রতিটি দলের সঙ্গে অ্যান্টিকরাপশন
ইউনিট থেকে একজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল
হাসান পাপন জানান, অ্যান্টিকরাপশন কর্মকর্তাদের সবাই হবেন সাবেক সেনা
কর্মকর্তা। গতকাল বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তারা প্রতিটি দলকে ব্রিফও করেছেন।
- বিষয় :
- বঙ্গবন্ধু বিপিএল
