ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পর্দা নামল এসএ গেমসের

প্রত্যাশা পূরণের আনন্দ

প্রত্যাশা পূরণের আনন্দ
×

সাখাওয়াত হোসেন জয় কাঠমান্ডু থেকে

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩৭

হিমালয়ের দেশে নতুন চূড়ায় বাংলাদেশ। প্রত্যাশা পূরণের আনন্দে ভাসছে সবাই। সাউথ এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম এক আসরে ১৯টি স্বর্ণ জয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লাল-সবুজের ক্রীড়াবিদরা। ছাড়িয়ে গেছেন ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে ১৮টি স্বর্ণ জয়ের রেকর্ডকে। এবার এক আরচারি থেকেই এসেছে ১০টি স্বর্ণ; যা গেমসে এক ইভেন্টে বাংলাদেশের সেরা অর্জন। ক্রিকেটের দুই ইভেন্টেই সোনালি হাসি হেসেছেন খেলোয়াড়রা। নেপালে প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে আরও অনেক কিছু। তবে হতাশাও কিন্তু কম নয়। সাঁতার, শুটিং ও বক্সিং ডিসিপ্লিনে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সব মিলিয়ে এবারের গেমসে ১৯টি স্বর্ণ, ৩৩টি রৌপ্য, ৯০ ব্রোঞ্জসহ মোট ১৪২টি পদক জিতেছে বাংলাদেশ। গতকাল জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কাঠমান্ডুতে শেষ হয়েছে সাউথ এশিয়ান গেমসের ১৩তম আসর। উদ্বোধনীতে চমক ছিল লেজার শোর মাধ্যমে ডিসিপ্লিনগুলো ফুটিয়ে তোলা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষত্ব ছিল ড্রোন। ১৫০টির বেশি ড্রোন উড়ছিল দশরথ স্টেডিয়ামের ওপর। শেষে পরবর্তী গেমসের আয়োজক পাকিস্তানের হাতে পতাকা হস্তান্তর করেন নেপাল অলিম্পিকের কর্তাব্যক্তিরা। গেমসের মশাল নেভানো হয়। সমাপনীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাথলেট মার্চপাস্টে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে অংশ নেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটরাও। মার্চপাস্টে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করেন সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শীলা।

২৬টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে ২৫টিতে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯টি স্বর্ণ এসেছে মোট ছয়টি ডিসিপ্লিন থেকে- আরচারি, ক্রিকেট, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ভারোত্তোলন ও ফেন্সিং থেকে। এর মধ্যে এক আরচারিতে ১০টি, কারাতে থেকে তিনটি, ক্রিকেটে দুটি, ভারোত্তোলনে দুটি, তায়কোয়ান্দো ও ফেন্সিং থেকে একটি করে। ১৯টি স্বর্ণের ১৩টিই এসেছে পোখারা থেকে, বাকি ছয়টি কাঠমান্ডুর বিভিন্ন ভেন্যু থেকে। স্বর্ণপদক আসতে পারত আরও। তবে দেশের আলোচিত দুই ডিসিপ্লিন শুটিং ও সাঁতার থেকে সোনা না আসাটাই এবারের গেমসে বাংলাদেশের বড় হতাশা। তার পরও অতীত রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ার আনন্দ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজার, 'আমি সত্যি খুব খুশি। প্রত্যাশা যা নিয়ে এসেছিলাম, এর খুব কাছাকাছি গেছি। আমি খুব খুশি। কিন্তু কিছু কিছু ডিসিপ্লিন খারাপ করেছে। তাই বলে আমরা হতাশ হইনি। যে রুপাগুলো পেয়েছি এর মধ্যে সোনার প্রত্যাশা ছিল।'

আরচারির পর ক্রিকেটেও শতভাগ সাফল্য। ছেলে ও মেয়ে- দুই বিভাগেই স্বর্ণ এসেছে। ভারোত্তোলনে মাবিয়া স্বর্ণ ধরে রেখেছেন, ২০১৬ সালে শিলং ও গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসেও স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। এই ডিসিপ্লিন থেকে আরেকটি স্বর্ণ জিতে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন জিয়ারুল ইসলাম। হিসাবের বাইরে থাকা ফেন্সিং থেকে এসেছে একটি স্বর্ণ। যেখানে স্যাবার ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন মাত্র দুই মাস বয়সে মা হারানো ফাতেমা মুজিব। মার্শাল আর্ট ডিসিপ্লিন থেকে পদকের প্রত্যাশা আগে থেকেই ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন অ্যাথলেটরা। বিশেষ করে এক কারাতে থেকে আল আমিন হোমায়রা আক্তার অন্তরা ও মারজান আক্তার প্রিয়া সোনালী হাসি হেসেছেন। এবারের গেমসে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ আসে দিপু চাকমার হাত ধরে তায়কোয়ান্দো থেকে। আর ১৯তম স্বর্ণ আসে ছেলেদের ক্রিকেট থেকে।

এত অর্জনের পর শুটিং, সাঁতার ও ফুটবলের ব্যর্থতা সামনে চলে এসেছে। স্কোয়াশ, ভলিবল, বাস্কেটবল, টেনিস ও সাইক্লিংয়ে কোনো পদক না পাওয়াটা হতাশাজনক। বিশেষ করে ২০১০ সালে এসএ গেমসে ফুটবলে স্বর্ণ জেতা বাংলাদেশ টানা দুই আসরে ব্যর্থ। আর ২০০৬ সালের পর এবাই প্রথম শুটিংয়ে স্বর্ণহীন। তিন বছর আগের গেমসে বাংলাদেশের চার স্বর্ণের দুটিই এসেছিল সাঁতার থেকে। এবার মাহফুজা খাতুন শিলা ছিলেন না। জুনাইনা আহমেদ-আরিফুল ইসলামরাও পুলে ঝড় তুলতে পারেননি। সাঁতারের ব্যর্থতায় হতাশ শাহেদ রেজাও, 'সাঁতারে যেভাবে চেয়েছিল আমি ওদের প্রত্যাশা পূরণ করেছি। তারা কোচ চেয়েছিল। তাদের কোরিয়ান কোচ দিয়েছি তিন বছর পর্যন্ত। যেভাবে তারা ট্রেনিং পেয়েছিল, সেভাবে তারা ফল পায়নি। আমরা চেয়েছিলাম ওদের বাইরে পাঠাব। ফ্রান্সে আরিফুল, থাইল্যান্ডে সাগরকে পাঠালাম। কিন্তু ওরা ভালো রেজাল্ট করতে পারেনি।'

আরও পড়ুন

×