গ্যাজেট সমীক্ষা
ডিভাইসে কারা বেশি আসক্ত সন্তান, না অভিভাবক
সাদি সাবেরিন
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫২
বয়সে ছোটদের স্মার্টফোন আসক্তি যেন বাড়ছেই। এতে যে নানা ক্ষতি হচ্ছে, তা অভিভাবকদের জানা। কিন্তু এখন ছোটরাই বৈরী সুরে কথা বলছে। তারা বলছে, মা-বাবারাই তাদের চেয়ে স্মার্টফোনে বেশি আসক্ত। সারাদিন বাড়িতে তারা ডিভাইস বা অ্যান্ড্রয়েড টিভিতে ডুবে থাকেন। সন্তানদের সময় দেওয়ার একদম ফুরসত নেই তাদের।
হ্যাঁ, এটাই বাস্তব। খ্যাতনামা মোবাইল সংস্থার সমীক্ষা বলছে, বয়সে বড়রাই এখন ছোটদের তুলনায় স্মার্ট ডিভাইসে বেশি আসক্ত। সন্তানদের তুলনায় তাদের অভিভাবক অনেক বেশি সময় ডিভাইসে ব্যস্ত থাকেন। সমীক্ষায় বিশেষ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
সবার আগে যে তথ্যটি আলোচিত হয়েছে তা হলো, প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজন
কিশোর-কিশোরী মা-বাবার মোবাইল ফোনে পেরেন্টাল কন্ট্রোল চাইছে। কারণ তারা বলছে, মা-বাবার মোবাইল আসক্তি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, এটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে। সন্তানকে সময় না দিয়ে মা-বাবা মোবাইল নিয়েই বিভোর থাকছেন। তাই এতে নিয়ন্ত্রণ আনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সমীক্ষায় দেড় হাজারের বেশি পরিবারকে আওতায় নেওয়া হয়। গবেষণা বলছে, মা-বাবারা দিনে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা মোবাইলে সময় দেন। সেই জায়গায় তাদের সন্তানরা মোবাইল দেখে গড়ে প্রতিদিন চার ঘণ্টা।
উদ্বেগের কারণ হলো– এই মোবাইল আসক্তি সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার দূরত্ব ও অশান্তির অন্যতম প্রধান কারণ। সমীক্ষায় জানা গেছে, ৭০ শতাংশের বেশি মা-বাবা ও ৬৫ শতাংশের বেশি শিশু মনে করছে, এসব সমস্যার পেছনের প্রধান কারণ মোবাইল। এর আসক্তি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে মা-বাবা বা সন্তান– নিজেরা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। যতজনের ওপর সমীক্ষা করা হয়েছিল, তার দুই-তৃতীয়াংশ ছুটিতে, বেড়াতে গিয়ে, এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েও মোবাইলে বুঁদ হয়ে আছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী বলছে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে থাকার সময়ে তারা ফোন থেকেই দূরে থাকতে চায়।
অন্যদিকে, ৭৫ শতাংশ বলছে, ফোন নয়, সম্পর্ক বেশি জরুরি। তাই ফ্যামিলি টাইমে নো মোবাইল। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ফোন কেমন হওয়া উচিত, তার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। অনেকে বলছে, মোবাইলের ফিচার বদলে দেওয়া উচিত। এমন মডেল আনা উচিত, যাতে থাকবে না গেম; থাকবে না বেশ কিছু সোশ্যাল সাইট। প্রধান গুরুত্ব দেওয়া উচিত মেসেজিং, কলিং ও ক্যামেরায়। যেসব ফিচার জীবনের আনন্দঘন মুহূর্ত ধারণ করবে। নিজেদের মধ্যে যদি এমন সমস্যা থাকে, তাহলে সচেতন হতে হবে। সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করার আগে ভাবা উচিত, নিজেকে কতটা নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব।
- বিষয় :
- স্মার্টফোন
