ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানব মস্তিষ্কে সাইকোসিস ঝুঁকি

মানব মস্তিষ্কে সাইকোসিস ঝুঁকি
×

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে চ্যালেঞ্জটা সামনে নিয়ে এসেছে, তার নাম এআই সাইকোসিস

সাব্বিন হাসান

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৩ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ২১:৪৬

সামাজিক থেকে ব্যক্তিজীবন– কোথায় নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতি। সুবিধার সঙ্গে বেশ কিছু সমস্যাও তৈরি করছে অনিয়ন্ত্রিত এই প্রযুক্তি। ক্রমে নিত্য সমস্যা তৈরি করে চলেছে এআই। বলতে গেলে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সবচেয়ে বেশি যে চ্যালেঞ্জটা সামনে নিয়ে এসেছে, তার নাম এআই সাইকোসিস।

নতুন করে প্রশ্ন আসবে– কী এটি, কী কারণে এটি সমস্যা তৈরি করে, কেন তা সমস্যার কারণ? এসব প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজতে কিছু তথ্য-উপাত্ত সামনে এলো। অনেকে বলছেন, স্বাভাবিক জীবনে উন্মাদনা ছড়ানোর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে এআই চ্যাটবট।

জানা গেছে, বিশ্বের ৭০ কোটি গ্রাহক প্রতি সপ্তাহে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। এই জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম কারণ হলো এআই নিজেকে সব সময় আপডেট করছে। মানব মস্তিষ্কের সব ধরনের চাহিদা পূরণে সে নিজেকে ঢেলে সাজাচ্ছে। অন্যদিকে, সে এমন কিছু উত্তর প্রকাশ করছে, যা প্রশ্নকর্তার ওপর শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের চাপ তৈরি করছে। ঠিক এখান থেকেই জন্ম নিয়েছে সাইকোসিস ধারণা। অর্থাৎ এ থেকে তৈরি হচ্ছে দুশ্চিন্তা, মানসিক যন্ত্রণা, অযৌক্তিক ভয় বা ভালো না লাগার মতো কয়েকটি গভীর মানসিক সমস্যা।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমস্যা যেন বেড়ে অনেক ক্ষেত্রে আলঝেইমার্সের মতো গভীর মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা তৈরি করছে। ঠিক যে প্রশ্নটা এর পরেই সামনে আসছে, তা হলো– কী ধরনের প্রশ্ন করা হচ্ছে এআইকে, যার কারণে এত সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সহজ করে উদাহরণে বলা যায়, ব্যক্তিজীবনের প্রশ্ন। চ্যাটে সবচেয়ে যে প্রশ্নটা বেশি করা হয়েছে, সেটি হলো– সম্পর্ক বিচ্ছেদ 
( ব্রেকআপ) নিয়ে। প্রথম প্রথম এমন প্রশ্নের সদুত্তর জানাতে জড়তা বা বিভ্রান্ত হয়েছে এআই। কিন্তু প্রশ্নের পরের ধাপে এগোতে সমস্যার কারণ হয়েছে। কৃত্রিম মেধা এমন কিছু বিচারমূলক (জাজমেন্টাল) উত্তর দিয়েছে, অর্থাৎ যিনি প্রশ্ন করেছেন, তাঁকে যেন ট্রমার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঠিক এসব জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্নোত্তরের কারণেই মানব মস্তিষ্কে অজান্তেই তৈরি হচ্ছে মানসিক নানা সমস্যা।

আশার খবর হলো, এমন সমস্যা নিরসনে বেশ কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে এআই সংস্থা। ওপেনএআই বলেছে, তারা চ্যাটবটে কোনো বিতর্কিত প্রশ্ন পেলে তার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ করে তবেই প্রতিউত্তর করবে। মানসিক সমস্যা বা স্ট্রেস রয়েছে– এমন কোনো প্রশ্ন করলে সেসব অত্যন্ত সংবেদনশীল বিবেচনা করে উত্তর দেওয়া হবে। অর্থাৎ হুট করে যে কোনো উত্তর দেওয়ার আগে সেই উত্তরের সঙ্গে কতটা ভালো-মন্দ জড়িত রয়েছে, তা প্রথমে খতিয়ে দেখা হবে, পরে তা বিবেচনা করবে চ্যাটজিপিটি।

সংস্থার এমন উদ্যোগ প্রমাণ করে, কীভাবে এআই মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বা কীভাবে তার প্রভাব পড়ছে মানব মস্তিষ্কে (হিউম্যান ব্রেইন)। এতে প্রমাণিত হয়, মানব মস্তিষ্ক কীভাবে সরল বিশ্বাসে সব বিষয়ে এআই প্রযুক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে চলেছে। এ যেন করুণ এক অসহায়ত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মানবিক ভাবনাকে; চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে মানব আর যন্ত্রের কর্মক্ষমতাকে।

যদিও এর পেছনে অনেক যৌক্তিক কারণ কাজ করছে। জগতে একাকিত্ব এখন গভীর অসুখের রূপান্তর হয়েছে। সময় যত সামনে দিকে এগোচ্ছে, ততই যেন হালকা হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষাজীবনের বন্ধুত্ব।

আগে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তাদের সঙ্গে এখন দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কর্মজগৎ যতটা দ্রুত ও প্রতিযোগিতার হচ্ছে, সহকর্মী থেকে বন্ধুত্ব বা সঙ্গীর দূরত্বও যেন সেভাবেই বিভাজন হয়ে পড়ছে। দিনে-রাতে কয়েক ঘণ্টা চ্যাটবটে বুঁদ হয়ে থাকাটাই যেন এখন ট্রেন্ড। গবেষকরা বলছেন, ঠিক এ কারণেই উদ্ভব হচ্ছে বিচিত্র সব মানসিক সমস্যা।

বিপরীতে মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শে বলছেন, মনের সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই এআই প্রযুক্তির কাছে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কিন্তু এআই যেভাবে তার পরামর্শের জালে মানব মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে, তাতে ভবিষ্যতে এর লাগাম টানা সত্যিই কঠিন ও চ্যালেঞ্জের হবে– এমন প্রশ্ন কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার আর অবকাশ নেই।

আরও পড়ুন

×