কৃত্রিম মেধার দৌড়ে ইলন এগিয়ে রাখলেন গুগলকে
সাদি সাবেরিন
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:০৯
সারাবিশ্বেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে বেশ কিছু টেক সংস্থার মধ্যে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। ওপেনএআই, গুগল ছাড়াও কয়েকটি সংস্থা এআই মডেল তৈরির কর্মযজ্ঞে রীতিমতো বিভোর হয়ে আছে। কিন্তু শেষমেশ এই দৌড়ে কে কতটুকু এগিয়েছে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য আর ধূম্রজাল।
উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্পেসএক্স প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী ও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক। কারণ, তাঁর সংস্থাও রয়েছে এআই দৌড়ের মিছিলে। কিন্তু কোন সংস্থার মডেলকে এগিয়ে রাখতে চাইবেন তিনি– এমন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক।
ইলন মাস্ক মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে গুগল। মাস্ক বলছেন, পশ্চিমা দুনিয়ায় এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকবে গুগল। সারাবিশ্বে এই দৌড়ে চূড়ান্ত বিজয়ী হবে চীন। আর মহাকাশ বিজয়ে তাঁর নিজের সংস্থা স্পেসএক্সকে কেউ পেছনে ফেলতে পারবে না।
অ্যাবাকাস এআইর নির্বাহী প্রধান বিন্দি রেড্ডি কিছুদিন আগে এ প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডলে নিজস্ব মন্তব্য করেছেন এবং এই আলোচনাকে খানিকটা নতুন মাত্রায় উস্কে দিয়েছেন।
সাবেক এই গুগল কর্মী বলেছেন, গুগলের জেমিনি থ্রি মডেল নিয়ে সবার মধ্যে হতাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। উন্মোচনের পর থেকে এখনও জেমিনি ৩.০ উল্লেখযোগ্য সাড়া জাগাতে এক অর্থে ব্যর্থই হয়েছে। তাই আমাদের মতো অধিকাংশই জেমিনি ২.৫ সংস্করণ ধরে রয়েছি। সমস্যা সরিয়ে রেখে এই মডেলকে পূর্ণ মাত্রায় প্রশিক্ষণ দিতে কে নিষেধ করেছে– এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গুগলের উচিত আগের চেয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে কয়েকটি এআই মডেল নিয়ে কাজ করা।
বিন্দি রেড্ডির এই পোস্টের সদুত্তরে ইলন মাস্ক নতুন করে মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন।
কী বললেন মাস্ক
অন্যদিকে, নিজের সংস্থা এক্সএআই নিয়েও সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিয়ে ইলন মাস্ক বলেছেন, গ্রোক এআইর নির্মাতা হিসেবে এক্সএআই এখনও প্রধান প্রতিযোগীদের থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে। তবে দ্রুতই এ পরিস্থিতি বদলে যাবে; ঘুরে দাঁড়াবে গ্রোক। চলতি বছরের মধ্যেই সব ধরনের এআইকে ছুঁয়ে ফেলবে গ্রোক। অন্যদিকে বুঝেশুনে এগোচ্ছে গুগল। কথাটির পক্ষে রয়েছেন এআই গবেষকরা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। কারণ, মানুষের সার্বিক কল্যাণে এআইকে তৈরি করাই হলো উদ্ভাবনের প্রকৃত শর্ত। সময়ের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে এআইকে ভবিষ্যতের সব কাজের জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বিতর্ক আর শঙ্কার কারণ হয়ে উঠছে এই প্রযুক্তি। সারাবিশ্বে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হওয়া এই খাতে তাই গুগলের মতো অভিজ্ঞ সংস্থার এগিয়ে থাকাটা ভালো কিছু ইঙ্গিতের কথাই বলে।
- বিষয় :
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
