ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছাবে ডিজিটাল সেবা

প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছাবে ডিজিটাল সেবা
×

­ টেকলাইফ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২১

ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে অন্তর্ভুক্তিমূলক কয়েকটি খাতের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বের কথা নতুন করে উপস্থাপন করেন কয়েকজন উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিতে একযোগে কাজ করছে তিনটি সংস্থা। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সঙ্গে অংশীজন হয়ে ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু করেছে গ্রামীণফোন।

প্রথম ধাপে ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে এই পরিষেবা। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ নারী ও কিশোরী। এর ওপর ভিত্তি করে ২০২৮ সালের মধ্যে 
৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অংশে নারীর অনুপাত হবে সুবিধাভোগীর ৭০ শতাংশ। 

সারাদেশে প্রথম ধাপে শিক্ষার জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার, অনলাইন সরকারি পরিষেবা গ্রহণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন ও ডিজিটাল মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির মতো বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে আটটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছানোর যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ হওয়ার লক্ষ্য পূরণে বিশেষ কোনো গোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিতে এই পদক্ষেপ হবে দৃষ্টান্তযোগ্য। ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস সমৃদ্ধ করা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা জরুরি অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সরকারি পরিষেবা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অর্থবহ অংশ নিতে পারে, এ জন্য তাদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে এই উদ্যোগ সরকারকে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী বলেন, কার্যকর বা অর্থবহ কানেক্টিভিটি শুধু নেটওয়ার্ক কাভারেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার। এ উদ্যোগ সহযোগিতার ভিত্তিতে কীভাবে ডিজিটাল বৈষম্য দূর হতে পারে, তার দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি সবার জন্য শেখার, অর্জনের ও বিকশিত হওয়ার অবারিত সুযোগ তৈরি করে। প্রথম পর্যায়ে দেখেছি, কীভাবে ডিজিটাল দক্ষতা সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই জীবিকার ওপর নতুন লার্নিং মডিউল লক্ষ্যকে সুপ্রসারিত করেছে। তরুণদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপরে এতে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল বিশ্বে এতে অধিকসংখ্যক মানুষ স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক সক্ষম হতে পারবে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস জানালেন, তখনই প্রযুক্তি সমতা অর্জনে জোরালো মাধ্যম হতে পারে, যখন সবার সামনে এটি নিরাপদে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। 

অংশীজন হয়ে আমরা কিশোরী, তরুণী ও প্রান্তিক জনগণকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় ক্ষমতায়ন করেছি। নিজেদের অধিকার আদায়, জীবনে চলার সক্ষমতা বাড়াতে ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে এটি সহায়ক হবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা সবাই মিলেই নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন

×