অ্যাপের ব্যবহার তিন গুণ, সারসংক্ষেপ অনুমোদন অনলাইনে
প্রতীকী ছবি
দেলওয়ার হোসেন
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৯ মে ২০২০ | ১৬:৫১
করোনা দুর্যোগে দেশে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। অথচ গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) বৈঠকও করতে পারেনি খাদ্য মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বৈঠক ছাড়াই খাদ্যশস্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। এরপর গত ২১ এপ্রিল ঘরে বসেই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামীম হাসান ১০ লাখ টন ধান সংগ্রহের জন্য ই-নথির সূচনা করেন। একদিনের মধ্যেই অতিরিক্ত সচিব, সচিব ও মন্ত্রীর অনুমোদনসহ খাদ্যশস্য সংগ্রহের জিও তৈরি হয়। ই-নথির মাধ্যমেই সেই জিও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। ই-নথি চালু না হলে হাতে হাতে চিঠিপত্র সংগ্রহ করতে হতো। কর্মকর্তারা অফিসে এসে ফাইল তৈরির পর তা ডেস্কে ডেস্কে ঘুরত। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যেত।
শুধু খাদ্য মন্ত্রণালয় নয়, এখন প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত চলছে ই-নথির ব্যবহার। ঘরে বসেই কাজ করছেন কর্মকর্তারা। বর্তমানে ই-নথি ব্যবহার করছেন ৯০ হাজার কর্মকর্তা। এর মধ্যে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারী ৩০ হাজার। করোনাকালে মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। ২৬ মার্চের আগে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার কর্মকর্তা মোবাইল অ্যাপে ই-নথি ব্যবহার করতেন। করোনাকালে প্রতিদিন ব্যবহার করছেন ১২ হাজার কর্মকর্তা। ই-নথি চালুর পর প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেখানে থাকুন না কেন, সেখানে বসেই অফিসের কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সচিবরা বেশিরভাগ সারসংক্ষেপ এখন ই-নথিতে অনুমোদন করছেন। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাজমানারা খানুম সমকালকে বলেন, অফিসের সব কাজ এখন ই-নথিতে অনুমোদন করছি। জরুরি অনেক কাজ মোবাইল অ্যাপে দ্রুত করা হচ্ছে। মে ও জুন মাসে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনাসহ সব সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ই-নথিতে পাঠিয়েছেন। রাশিয়া থেকে দুই টন খাদ্য সংগ্রহের যাবতীয় কাজ ই-নথির মাধ্যমে করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল এই সেবা চালু না হলে করোনাকালে কাজ করা কঠিন হতো। দেশের শতভাগ সেবা ডিজিটাল করার এটাই উপযুক্ত সময়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সমকালকে বলেন, করোনাকালে কার্যালয়ের সব কাজ অনলাইনে চলছে। প্রধানমন্ত্রী বেশিরভাগ সারসংক্ষেপ ই-নথিতে অনুমোদন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপগুলো হার্ডফাইলেও দেখছেন। মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম অনলাইনে করা হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মতি সব বৈঠক হচ্ছে।
জানা যায়, ঘরে বসে ই-নথির কাজ করতে সমস্যার মুখোমুখিও হচ্ছেন অনেকে। তবে
অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে সমস্যার কথা জানালে সমাধান করছে ই-নথি টিম। গতকাল
মঙ্গলবার জামালপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মিঠুন কুমার সাহা
ই-নথি ব্যবহারে ফেসবুক গ্রুপে সমস্যার কথা জানান। এর কিছুক্ষণ পর ই-নথির
জাতীয় উপদেষ্টা ইমরুল হাসান কমেন্টস বক্সে লেখেন সমাধান করা হয়েছে।
মঙ্গলবারে ১৫ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ) শামীম হাসান সমকালকে বলেন, জরুরি কাজের অনেক ফাইল ৩০ মিনিটের মধ্যে ই-নথিতে নিষ্পন্ন করা হচ্ছে। ফাইল তৈরির পর ক্লিক করলেই তা অতিরিক্ত সচিবের কাছে চলে যায়। তিনি দেখার পর তার সচিব ও মন্ত্রী অনুমোদন করেন। তারপর জিও জারি করা হয়। করোনাকালে খাদ্যশস্য কেনার ২২ লাখ ২৫ হাজার জিও এভাবেই জারি করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, করোনাকালে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। সরকারি সব সেবা ই-নথির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। মোবাইলে ভয়েস কলের পরিমাণ কমেছে, বেড়েছে ডাটা কল। এ জন্য ডাটার পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। দেশকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, এপ্রিল মাসে বড় ক্যাটাগরির ৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ই-নথি অনুমোদন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় ৩১২টি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৮টি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৭৬টি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪টি এবং অর্থ বিভাগ ৬টি। মধ্যম ক্যাটাগরির ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় এক হাজার ১১১টি, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ৭৯টি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৮৪টি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬৯টি, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ৬২টি ই-নথি অনুমোদন করেছে। ছোট ক্যাটাগরির ৩৫টি মন্ত্রণালয় বিভাগের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় ২৩৪টি, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৫৭টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২১টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ৪১টি ফাইল ই-নথিতে নিষ্পন্ন করেছে।