ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বিয়ের রেশ না কাটতেই শ্রাদ্ধের আয়োজন

বিয়ের রেশ না কাটতেই শ্রাদ্ধের আয়োজন
×

আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর। ছবি: সমকাল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২৮ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৪৩

মৌলভীবাজার শহরের যে বাড়িতে দু'দিন আগেও ছিল বিয়ের ধুমধাম, রঙের মাখামাখিতে চলছিল আনন্দযজ্ঞ, ভয়াবহ আগুনে সেই বাড়িটি এখন ছাইভস্ম। আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন বাড়ির কর্তা ও তার মেয়েসহ পাঁচজন। বিয়ের আনন্দ-উৎসবের রেশ না কাটতেই স্বজন হারানো শোকে স্তব্ধ সেই বাড়িতে চলছে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন।

মঙ্গলবার সকালে শহরের সাইফুর রহমান রোডের (সেন্ট্রাল রোড) পশ্চিমবাজারের পিঙ্কি সু স্টোর ও লাগোয়া বাসায় আগুন লেগে একই পরিবারের তিনজন ও দুই আত্মীয় নিহত হন। বেঁচে যাওয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের প্রিয়জন হারিয়ে এখন নির্বাক। কারও সঙ্গেই তেমন কথা বলছেন না। কখনও বিলাপ, কখনও বা বোবাকান্নায় কাটছে সময়।

হবিগঞ্জের উমেদনগর থেকে পিঙ্কির বিয়ে অনুষ্ঠানে এসে তার মাসি দিপা ও মাসতুতু বোন বৈশাখী মারা গেছে। তাদেরও দাহ করা হয়েছে মৌলভীবাজার সৈয়ারপুর শ্মশানঘাটে। বেঁচে যাওয়া দিপার স্বামী সজল রায় ও ছেলে বাকরুদ্ধ। গোপাল দাস নামে এক প্রতিবেশী জানান, ফিরাযাত্রার বরখানির অনুষ্ঠানের বদলে তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। কয়েক দিন পরে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্মরণে হবে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান।

মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সুভাষ রায়ের পূর্বপুরুষ এককালে জমিদার ছিলেন। একাত্তরে এই পরিবারের দুই সদস্য যোগ দেন স্বাধীনতা যুদ্ধে। পিতা-পুত্র দু'জনই যুদ্ধে শহীদ হন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এই পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু ডাকযোগে এক চিঠিতে তাদের ত্যাগের কথা স্বীকার করেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দু'জনের নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় স্থান পায়নি।

পৌর মেয়র বলেন, কারও পেছনে ঘুরে স্বীকৃতি আদায় সুভাষ রায় পছন্দ করেননি। একটি দুর্ঘটনায় পাল্টে গেছে ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারের দৃশ্যপট।

এদিকে আগুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানা মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, কমিটির সব সদস্যকে নিয়ে সভা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে কমিটি।


আরও পড়ুন

×