ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-পরামর্শ জানতে 'ইউএনও বক্স'

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-পরামর্শ জানতে 'ইউএনও বক্স'
×

উপজেলার রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বসানো ইউএনও বক্স। ছবি: সমকাল

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৩৫ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৩৯

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা জেনে তা সমাধানের লক্ষ্যে 'ইউএনও বক্স' নামে অভিযোগ বক্স বসিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ইউএনও নাজিমুল হায়দার। বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে উপজেলার রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি হাজী জলিল উচ্চবিদ্যালয়ে এ বক্স বসানো হয়। ইউএনওর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।

সরেজমিন উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এটিকে ভালোভাবেই দেখছেন। তারা মনে করেন, পরিবার কিংবা শিক্ষকদের সঙ্গে বলতে না পারা অনেক সমস্যার কথাই তারা এই বক্সে লিখতে পারবেন। এ ছাড়া ইভটিজিং, বখাটের উৎপাতসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দ্রুত হবে বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভিন্ন পরামর্শও গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সায়েদা খানম বুশরা ও নবম শ্রেণির ছাত্রী নূরে জান্নাত তোষাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, অনেক সময় রাস্তায় আমাদের সঙ্গে অনেক অশোভন আচরণ হয়, যা আমরা পরিবার ও শিক্ষকদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি না। এই বক্সটি হওয়াতে আমরা খুশি। কেননা, এখন থেকে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বলতে পারব। তবে তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষার দাবি জানিয়ে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানায়।

অভিভাবক সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমানে মেয়েদের কোনো দিকে পাঠিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারেন না অভিভাবকরা। তবে ইউএনও এ উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা অনেকটা স্বস্তি বোধ করছি।

রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল আজাদ জানান, এই বক্সটি স্থাপনের ফলে ইভটিজারদের জন্য হুমকি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আস্থার জায়গা তৈরি হবে। বাল্যবিয়ে, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ হবে। আমার মনে হয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বক্স বসানো প্রয়োজন।

ইউএনও নাজিমুল হায়দার বলেন, অনেক সময় ভালো রেজাল্টের প্রলোভন দেখিয়ে কোনো কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও প্রশ্ন ফাঁসের মতো অপরাধ করার অভিযোগ শোনা যায়। তা ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রমোশন, সেকশন পরিচালনা, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, বাড়তি ফি আদায়, আর্থিক অনিয়ম, বুলিং, র‌্যাগিংয়ের মতো সমস্যা নানা কারণে প্রশাসনের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায় না। রাস্তায় চলাচলেও অনেক শিক্ষার্থী নানাভাবে হেনস্তা হয়। শিক্ষার্থীরাও পরিবারের ভয়ে কিংবা শিক্ষকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে না পরার কারণে অনেক সময় চুপ করে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই এ বক্স খোলা হয়েছে। স্বচ্ছ এ বপের চাবি প্রশাসনের কাছে রয়েছে এবং বক্সটি সপ্তাহের একটি দিন খোলা হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানে এ বক্স বসানো হবে।

আরও পড়ুন

×