ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ২০ জুন পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রামে ২০ জুন পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা
×

ছবিটি আকবরশাহ এলাকার পাহাড়ধসের

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২২ | ০৭:৩৬ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২২ | ০৭:৩৬

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে বলা হয়েছে। আর এই সময়ে পাহাড়ধসের শঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।   

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। এরপর কিছুটা কমলেও থেমে থেমে বৃষ্টি হবে মাসজুড়েই। ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথাও জানান এ কর্মকর্তা। 

এর আগে শুক্রবার রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে চট্টগ্রামে নগরের আকবরশাহ থানার ১ নম্বর ঝিল বরিশালঘোনা ও ফয়'স লেক লেকভিউ আবাসিক এলাকার বিজয় নগরে দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় চার নারী-পুরুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। এদিকে শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৭২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, আগামী দু’তিন দিন ভারি বর্ষণ হবে। যারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছেন, তারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন। নগরে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা আছে। যতদিন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকবেন সবাইকে ততদিন সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে। এ জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর ১০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং আহত ৬ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের একার পক্ষে কোনদিনই অবৈধ বসবাসকারীদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব না। আমরা উচ্ছেদ করার কিছুদিন পর সেই জায়গায় আবারও বসতি হয়।

আকবর শাহ থানার ওসি ওয়ালি উদ্দিন আকবর বলেন, বরিশালঘোনা এলাকায় পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সব মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারা পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করেছে তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ও মেয়র এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম বলেন, পাহাড়ের নিচ থেকে সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে পাহাড়ে ধস হয়েছে সেগুলো সরকারি পাহাড়। সেখানে ৩০-৪০ বছর ধরে সাধারণ মানুষ বসবাস করে আসছে। শত শত মানুষ পাহাড়ের উপর, নিচে ও আশপাশে ঘর করে বসবাস করে আসছেন। পাহাড় কাটায় পাহাড়ের নিচে তৈরি করা ঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি টিম বরিশালঘোনা এলাকায় ঘিরে মাইকিং করে পাহাড়ের নিচে বসবাস করা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। কাটা পাহাড়ের নিচে তৈরি করা ঘর থেকে মানুষদের বের করে দিয়ে ঘর বন্ধ করে দেন। দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সেখানে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। বর্ষার সময় ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়। নগরে ১৮টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নগরের আগ্রাবাদ, বাকলিয়া, কাট্টলী ও চাঁন্দগাও সার্কেলের ১৮টি এলাকায় কেন্দ্রগুলো খোলা হয়েছে। পাহাড়ধ্বস ও বৃষ্টি থেকে রক্ষায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এসব কেন্দ্রে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়।

আরও পড়ুন

×