অতঃপর গরুর খামারে স্বপ্নজয় পলাশের
নিজের গরুর খামারে শেখ পলাশ-সমকাল
বাগেরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২২ | ২৩:০৫
মুরগির খামার করে পথে বসার অবস্থা হয় শেখ পলাশের। প্রায় আট লাখ টাকা লোকসান দিয়ে শুরু করেন ছন্নছাড়া জীবন। স্ত্রী-সন্তান ও সংসারের দিকে খেয়াল রাখতে পারতেন না তিনি। এভাবেই কেটে যায় তিন বছরের বেশি সময়।
এক পর্যায়ে বড় ভাই রকিবুল ইসলামের পরামর্শে গরুর খামারের দিকে ঝোঁকেন। ধারদেনা করে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে ১০টি গরু কিনে খামার গড়ে তোলেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ৩৫ বছর বয়সী পলাশকে। এবারের কোরবানির ঈদে তাঁর খামারে বিক্রয়যোগ্য ষাঁড় ছিল ৫০টি। এর মধ্যে ৪০টি ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়েছে।
পলাশের খামারে দু'জন কর্মচারী রয়েছেন। তিনি নিজেও কাজ করেন। প্রতিটি গরুকে দিনে দু'বার গোসল করানো হয়। খেতে দেওয়া হয় খড়, খৈল, ভুসি ও ঘাস। দিনে খরচ হয় সাত হাজার টাকা। তাঁর খামারের ষাঁড়গুলোর ওজন ৫ থেকে ১২ মণ। এগুলো দেশি, সিন্ধি, শাহিওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের।
পলাশ জানান, তাঁর মায়ের নামে গড়ে তোলা রিজিয়া অ্যাগ্রো খামারটি শুরু হয় ২০১৯ সালে। ওই বছর আটটি গরু বিক্রি করেই বিনিয়োগের টাকা উঠে লাভ হয় দেড় লাখ। বাকি দুটি গরু পরের বছরের জন্য রেখে দেন। এর সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৩টি। আট লাখ টাকা ব্যয়ে সে বছর লাভ হয় দুই লাখ। ২০২১ সালে ২৫টি গরু থেকে লাভ হয় ৫ লাখ টাকা। এবার কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা তাঁর।
পলাশ বলেন, '৭-৮ বছর আগে অনেক বড় খামার ছিল। সেখানে মুরগি ছিল চার হাজারের বেশি। কিন্তু মড়কে সব মরে যায়। হতাশার সাগরে ডুবে যাই। তবে গরুর খামার করে এখন অনেক ভালো আছি। দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে কোনো অভাব নেই।'