ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

যশোরে র‌্যাবের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটকে লাঞ্ছনার অভিযোগ

যশোরে র‌্যাবের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটকে লাঞ্ছনার অভিযোগ
×

যশোর অফিস

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:৫১ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:১২

যশোর-খুলনা মহাসড়কের মনিহার থেকে মুড়লি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশের দু'পাশে বুধবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এদিন বিকেলে এ অভিযান চলাকালে বকচর র‌্যাব ক্যাম্পের সামনে এক প্রকৌশলী ও বুলডেজার চালককে মারধর করেছেন সংস্থাটির সদস্যরা।

এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এএসপি সোহেল পারভেজ মোবাইলে ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।

এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন। তারা হামলার শিকার দু'জনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তবে তারা এ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনা জোনের স্টেট অফিসার সিনিয়র সহকারী সচিব অনিন্দিতা রায় বলেন, যশোরের পালবাড়ির মোড় থেকে মুড়লি মোড় পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে  বুধবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। বিকেলে উচ্ছেদকারী দলটি শহরের বকচর এলাকায় র‌্যাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে আসে। এ কার্যালয়ের প্রাচীরটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় নির্মিত হওয়ায় উচ্ছেদকারী দল র‌্যাব সদস্যদের তাদের গাড়ি সরিয়ে নিতে বলে। গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর প্রাচীরটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় পর র‌্যাব সদস্যরা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে এসে বুলডেজার চালক প্রতাপ কুমার ও উপসহকারী প্রকৌশলী তরুন কুমার দত্তকে মারধর করেন এবং বুলডেজারের সামনের কাচ ভেঙে দেন। এরপর তাদের ধরে ক্যাম্পের ভিতর নিয়ে যান।

ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায় অভিযোগ করেন, র‌্যাব কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই উচ্ছেদের বিষয় জানে। তাদের সাথে সড়কের কর্মকর্তাদের কথাও হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা যা করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী বুলডোজারের এক চালক জানান, প্রাচীর ভাঙার আগেই ম্যাজিস্ট্রেট র‌্যাব সদস্যদের গাড়ি সরাতে বলেছেন। গাড়ি সরানোর পরই প্রাচীর ভাঙা হয়েছে। এরপর র‌্যাবের ১০-১৫ জন ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে চালক প্রতাপ কুমার ও ইঞ্জিনিয়ারকে ধরে মারধর শুরু করেন। তিনি বলেন, এরপর ভয়ে আমরা পালিয়ে যাই।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন বলেন, র‌্যাব সদস্যরা হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন। বুট দিয়ে লাথি দিয়ে রক্তাক্ত করেন উচ্ছেদে আসা দুইজনকে। এরপর তাদের ধরে নিয়ে র‌্যাবের অফিসের ভিতর বেধে রাখা হয়।

অবশ্য র‌্যাব সদস্যরা দাবি করেন, ম্যাজিস্ট্রেট কোনো কথা শুনতে রাজি হননি। গাড়ি সরানোর সময় পর্যন্ত দেননি। র‌্যাব অফিস একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা। অস্ত্রসহ সরকারি সম্পদ নিয়ে সরে যাওয়ার আগেই ভাঙচুর শুরু করা হয়। ক্যাম্প কমান্ডারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দিতে চাইলেও তিনি কথা বলেননি। এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর ভাঙা যুক্তিযুক্ত হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন

×