চাঁদপুরে সংস্কারের নামে ধ্বংস করা হচ্ছে সুলতানি আমলের মসজিদ
জঙ্গল সাফ করে উদ্ধারকুত সেই মসজিদ -সমকাল
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:১৭ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:০০
বছর দেড়েক আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামে জঙ্গল পরিষ্কার করে উদ্ধার করা হয় সুলতানি আমলের এক গম্বুজ মসজিদ। হাতুড়ি, কুড়ালের আঘাতে সেই মসজিদের মূল চেহারেই এখন হারাতে বসেছে। ইতোমধ্যে মসজিদের বাহিরের প্রায় ৪০ ভাগ প্রাচীন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঐতিহাসিক উপাদান ফেলে সেখানে লাগানো হচ্ছে নিম্নমানের ইট। আর এই কাজটি করছে খোদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরেরই প্রকৌশলীসহ তাদের একটি টিম।
শুক্রবার মসজিদটির সংরক্ষণ কাজ দেখতে এসে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্তি সচিব) মো. হান্নান মিয়া হতবাক হয়ে যান। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্মমানের ইটের দেয়ালের কাজ যতটুকু হয়েছে, সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
মো. হান্নান মিয়া বলেন, 'যারা এ ভুল এবং লেপ-ছেপ দেওয়া কাজ করলেন এবং এটির সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে জবাব দিতে হবে। যা হয়েছে সেটি অনভিজ্ঞতা, উদাসীনতা ও অবিবেচকের কাজ! জেনে শুনে যেন সরকারি টাকা পয়সা জলে ফেলা। প্রাচীন মসজিদে নিদর্শন তথা তার শরীরের সম্পদ সেই জাপরি ইটগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আমরা যদি সময়মতো না আসতাম, তাহলে বোধহয় মূল মসজিদই পেতাম না!'
এ সময় ডিজি বলেন, 'মসজিদটির একটি পুরাতন ইটও যেন খোলা না হয়। মসজিদ ঘিরে যে ২ নম্বর ইট দিয়ে গাইড ওয়াল তৈরি করা হয়েছে, সেটি পুরোটা ভেঙে ফেলতে হবে। নতুন করে কাজ করতে হলে আমাকে বলে করতে হবে। প্রয়োজনে আমিই এ কাজের প্রধান তদারক হিসাবে থাকব।'
এ সময় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আতাউর রহমান ও রাখি সাহা, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মসজিদটি চাঁদপুরের সন্তান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পাশের গ্রাম জেলার সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। তিনি ২০১৮ সালের শেষের দিকে একটি বই পড়ে জানতে পারেন তার এলাকায় গভীর জঙ্গলে প্রাচীন আমলের ছোট এক গম্বুজ মসজিদ আছে। এলাকার চেয়ারম্যানকে খোঁজ নিয়ে মসজিদটি উদ্ধারে নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে চেয়ারম্যান শ্রমিক দিয়ে মসজিদটি উদ্ধার করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদটি দেখতে হাজার হাজার মানুষ আসতে শুরু করেন। এ নিয়ে সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়। পরে 'সুলতানি আমলের মসজিদটি আজও গেজেটভুক্ত হয়নি' ও 'সেই মসজিদ সংস্কারের উদ্যোগ নেই' শিরোনামে দুটিসহ আরো বেশকিছু সংবাদ সমকালে প্রকাশ হয়। এসব সংবাদের প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রীসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মসজিদটি সুলতানি আমলের এবং ইতিহাসের বিরাট অংশ বলে সনাক্ত করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। এরপর মন্ত্রণালয় এটিকে প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত করে এবং সংরক্ষণে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।
- বিষয় :
- চাঁদপুর
- সুলতানি আমলের মসজিদ
