যুবলীগ কর্মী হত্যা মামলা
কুসিক কাউন্সিলরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট
যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে জিলানী। ফাইল ছবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৬:৫২ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৬:৫২
কুমিল্লায় যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে জিলানী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এর কুমিল্লার পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক ও হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে কুমিল্লা নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে ওই এলাকার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধ ছিল। এর জেরে ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন, আরমান হোসেন, এমদাদুল হক, সাইফুলের নেতৃত্বে দুর্বত্তরা নগরীর পুরাতন চৌয়ারা বাজার এলাকায় দেশিয় অস্ত্র দিয়ে জিল্লুরকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি ২০২০ সালে ১ ডিসেম্বর তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই আরমান হোসেন নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন আরমান হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও জড়িতদের নাম প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে আরমান জানান, কাউন্সিলর আবুল হাসানের বাড়িতে জিল্লুরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ সমকালকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষীদের দেওয়া তথ্য ও আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১০ জনের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন- নগরীর রায়পুর গ্রামের কাউন্সিলর আবুল হাসান, তার চাচাতো ভাই ইমরান হোসেন, এমদাদুল হক, সাইফুল ইসলাম, শ্রীভল্লবপুর গ্রামের মেহেদী হাসান, উলুরচর গ্রামের আরমান হোসেন, মাহাবুবুল ইসলাম মাবুল, পুরাতন চৌয়ারা গ্রামের মো. নাসিম, মারুফ ও গোয়ালমথন গ্রামের মো. তুষার।
এদিকে মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি কাউন্সিলর আবুল হাসান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে। আর নিহত জিল্লুর রাজনীতি করতেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে। তার সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ ছিল না। এছাড়া গরু হাটের ইজারার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আদালতে আমি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করি।’
মামলার বাদী নিহত জিল্লুরের ছোট ভাই ইমরান হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ভাইয়ের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
- বিষয় :
- কুৃসিক
- যুবলীগ কর্মী
- হত্যা
- অভিযোগপত্র
- পিবিআই
- চট্টগ্রাম
- কুমিল্লা
