অনুষ্ঠান বন্ধ করলেন ইউএনও, বিয়ে হলো মসজিদে
এভাবেই শূন্য পড়ে ছিল বিয়ের মঞ্চ -সমকাল
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২০ | ০৭:০২
কনের বাড়ির চারিদিকে সুসজ্জিত ও ঝলমলে লাল নীল হলুদ বাতির প্রজ্বলন এবং বাড়ির ভিতর লোকের আনাগোনা হঠ্যাৎ থমকে গেল। গায়ে হলুদ ও বিয়ের প্যান্ডেল, খাবার প্যান্ডেল সব ভণ্ডুল করে দিল করোনাভাইরাস। করোনা এড়ানোর জন্য বিয়ে হলো মসজিদে প্রশাসনের উপস্থিতিতে।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় করোনাভাইরাস আতঙ্কে এবার প্রথম বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিল প্রশাসন। তবে উভয় পক্ষের ১০ জন করে ২০ জন উপস্থিত থেকে বিয়ের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে উপজেলার ইউএনওর মসজিদে বিয়ে পড়ানোর সিন্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
জানা গেছে, উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মো. মনিরুজামানের মেয়ে আফিয়া জামান রীমার সঙ্গে ধামরাইয়ের বালিথা গ্রামের মো. জিন্নত আলীর ছেলে মো. জাকির হোসেনের বিয়ে ঠিক হয়। এ বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত ছিল দেড় হাজার অতিথির। বুধবার ছিল গায়ে হলুদ। বৃহস্পতিবার ছিল বিয়ে। বর পক্ষের অতিথি ছিল সাড়ে তিন‘শ।
এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম বুধবার রাতে পুলিশ নিয়ে গায়ে হলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। তবে তিনি উভয় পক্ষের ২০ জনকে নিয়ে বিয়ের কাজ শেষ করার অনুমতি দেন। ইউএনওর নির্দেশ পালন করছে কিনা তদন্তে পাঠান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা ফাতেমাতুজ জহুরাকে। তিনি বৃহস্পতির গিয়ে দেখেন প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অতিথিদের জন্য রান্না করা হচ্ছে। এ খবর ইউএনওকে জানালে ওই বিয়ে উপজেলা পরিষদের মসজিদে পড়ানোর সিন্ধান্ত দেন।
কনের বাবা মোঃ মনিরুজামান জানান, বর পক্ষসহ ১৫’শ লোককে দাওয়াত করা হয়। তাদের জন্য খরচ করা হয় ১০ লাখ টাকা। রোববার হরগজ হাট থেকে একটি গরু কেনা হয় প্রায় ২ লাখ টাকা দিয়ে। সেই গরু বৃহস্পতিবার কালামপুর হাটে ২০ হাজার টাকা লোকশান দিয়ে বিক্রি করে দেই।
সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, বুধবার রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ না মানায় ওই বিয়ের অনুষ্ঠান মসজিদে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের ১০ জন করে ২০ জন লোক উপস্থিত থাকতে পারবেন।
- বিষয় :
- মানিকগঞ্জ
- করোনাভাইরাস
- বিয়ে
- সাটুরিয়া
