শিশুটিকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল আরেক শিশু
নিহত সুমনা
পাবনা অফিস
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২০ | ০৭:২৩
পাবনায় শিশু সুমনা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো ১১ বছর বয়সের আরেক শিশু নাঈম। নাঈম সোনাহারা এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র এবং একই গ্রামের এরশাদ হোসেনের ছেলে।
গত মঙ্গলবার পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামের সজিব হোসেনের কনিষ্ঠ মেয়ে সুমনার (৪) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন এরশাদ হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী নারগিস (৪০) এবং তাদের বড় সন্তান নাঈমকে (১১) থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জেরার মুখে নাঈম সুমনাকে হত্যার কথা স্বীকার করে বুধবার সন্ধ্যায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর থানার ওসি (তদন্ত) জালাল উদ্দীন জানান, সুমনা হত্যার পর নাঈম এবং তার বাবা-মাকে আটক করা হয়। জেরার এক পর্যায়ে নাঈমকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।
নাঈম তার বর্ণনায় বলে, ‘গত শনিবার সকাল ১০টার সময় ইটভাটার কাছে সুমনা ও তার ছোট ভাই আজাদ (৩) খেলছিল। খেলাধুলার এক পর্যায়ে আজাদকে সুমনা ধাক্কা দেয়। এতে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনার গলা চেপে ধরে। কিছুক্ষণ পর সুমনা নিস্তেজ হয়ে পড়লে সে তার নাকে হাত দিয়ে দেখে সুমনার শ্বাস আছে কিনা? সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত হলে নাঈম তাকে কাঁধে নিয়ে পাশেই ফুপা রবিউলের নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে যায়’। ওই বাড়ির চাবি নাঈমের কাছে থাকায় দরজা খুলে ঘরের মেঝেতে সুমনার লাশ রাখে। পরবর্তীতে সে স্বাভাবিকভাবেই তার ছোট ভাই ও অন্যদের সঙ্গে আবারও খেলতে থাকে। তবে মাঝে কয়েকবার সে জানালা দিয়ে সুমনার লাশ দেখতে যায় এবং লাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। গত সোমবার বিকেলে আবার দেখতে গেলে লক্ষ্য করে লাশের ওপর মাছি পড়ছে এবং দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। ধরা পরার ভয়ে সে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের মধ্যে থাকা বালিভর্তি বস্তার বালি ফেলে সেটার মধ্যে সুমনার লাশ ভরে। ঘরের সানসেটে রাখা ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ার পেয়ে সেটিতে সুমনার লাশ তুলে ঘরের বারান্দায় নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিলো লাশটি পাশের ক্ষেতে ফেলে দেওয়া। কিন্তু ইটভাটার লোকজন কাজ করায় তা সম্ভব হয়নি।
ওসি জালাল উদ্দিন সমকাল‘কে বলেন, ঘটনা বর্ণনার সময় নাঈম সম্পুর্ন স্বাভাবিক ছিলো, তাকে কোন প্রকার ভীত দেখা যায়নি।
তবে সুমনার বাবা সজিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে নাঈমের বাবা-মাও জড়িত ছিল। তা ছাড়া নাঈমের একার পক্ষে হত্যা করার পর লাশ গুমের অপচেষ্টা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
