ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

বগড়ায় দাফনে বাধা, আ.লীগ নেতাকে শোকজ

বগড়ায় দাফনে বাধা, আ.লীগ নেতাকে শোকজ
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২০ | ০৭:১০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ | ০৭:৫০

সর্দি-কাশি ও জ্বরে মৃত্যুবরণকারী এক ব্যক্তির মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ায় বগুড়ায় আওয়ামী লীগের শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মেজবাউর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শিবগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি আজিজুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা স্বাক্ষরিত ৩০ মার্চ এ সংক্রান্ত এক পত্রে অভিযুক্ত মেজাউল রহমানকে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

পত্রে মেজাউর রহমানের উদ্দেশে বলা হয়, গত ২৮ মার্চ গাড়িদহ গ্রামের যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন তার সৎকার কাজে আপনি কেন বাধা প্রদান করেছেন তার সদুত্তর আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিন্ম স্বাক্ষরকারীর নিকট দাখিল করবেন।

জানা গেছে, মাসুদ রানা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি সর্দি-কাশি ও জ্বর নিয়ে গত ২৮ মার্চ শনিবার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের দাড়িদহ গ্রামে মারা যায়। এরপর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে তার মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন মাসুদ রানা যে বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন তার আশ-পাশের ১৫টি বাড়ি লকডাউনের ঘোষণা দেন। পরে স্বজনরা মাসুদ রানার মরদেহ ওই গ্রামে দাফনের উদ্যোগ নিলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। অভিযোগ রয়েছে যে, ময়দানহাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজবাউর রহমানও মাসুদ রানার লাশ দাফনে বাধা দেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের  সহায়তায় স্থানীয় একটি মাজারের পাশে মাসুদ রানার লাশ দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে সোমবার বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী জানান, মাসুদ রানা কররোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। আইইডিসিআর থেকে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে তার করোনা নেগেটিভ। অর্থাৎ তার দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছিল না। ওই রিপোর্ট পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ওই গ্রামের ১৫টি বাড়ির ওপর থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করে নেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা তার দলের ময়দানহাটা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মেজবাউর রহমানকে শোকজ করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘তিনি যে কাজ করেছন তা খুবই অমানবিক। আমরা বার বার তাকে মোবাইল ফোনে বলেছি যে, মৃত ব্যক্তিকে দাফনের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু তিনি শোনেননি। দেখি তিনি কি জবাব দেন। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাকে বহিস্কারের জন্য জেলা কমিটিতে সুপারিশ করা হবে।’

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মেজাউর রহমানের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভড করেননি।

আরও পড়ুন

×