ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

দেশের দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলী আর নেই

দেশের দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলী আর নেই
×

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৩৬ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২০ | ০২:২২

দেশের দীর্ঘ মানব এবং বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘ ব্যক্তি জিন্নাত আলী আর নেই। মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি......রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। 

জিন্নাত আলীর পরিবার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জিন্নাত আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন-কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা। শোকবার্তায় সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি মরহুম জিন্নাত আলীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান।

দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলী কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামে ১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওই গ্রামের বর্গাচাষী আমীর হামজা। তার মায়ের নাম ছফুরা বেগম। তাদের এক মেয়ে, তিন ছেলের মধ্যে জিন্নাত আলী তৃতীয়। মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হরমোনের জটিলতার কারণে ১১ বছর বয়সে জিন্নাত আলীর দেহের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানান, তার মস্তিষ্কে একটি টিউমার পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রভাবিত করার ফলে তার উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ২.৮২ ইঞ্চি। গিনেস বুক রেকর্ড এবং উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী-পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত দীর্ঘতম মানব হলেন তুরস্কের সুলতান কোসেন। তার উচ্চতা ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি। 

জানা গেছে, জিন্নাত আলী দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কে টিউমারজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ডায়াবেটিসও ছিল। কয়েকদিন আগে মাথায় টিউমারজনিত সমস্যা বেড়ে গেলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত রোববার (২৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নোমান খালেদ চৌধুরী’র অধীনে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

অধ্যাপক ডা. নোমান খালেদ চৌধুরী জানান, রোববার সকালে জিন্নাত আলীকে যখন নিউরোসার্জারিতে আনা হয়, তখন তিনি অজ্ঞান ছিলেন। ওনার পরিস্থিতি এতই জটিল যে, তার আর জ্ঞান ফেরার সম্ভাবনা নেই। তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়া হয়েছিল। ওনার মস্তিষ্কে টিউমার ছিলো এবং সেটা খুব বড়। টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ ডিফিকাল্ট ছিলো। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন জিন্নাত আলী। প্রধানমন্ত্রী জিন্নাত আলীর চিকিৎসায় সহায়তা দিয়েছিলেন এবং প্রধানন্ত্রীর তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতায় জিন্নাতকে তার এলাকায় একটি দোকানও করে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলীর বাসস্থান ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থাও করে দেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে দেয়া হয় একটি পাকা ঘর সহ একখণ্ড জমি। রামুর গর্জনিয়া বাজারে তার নামে জমি বন্দোবস্ত দিয়ে সেই জমিতে নির্মাণ করে দেয়া হয় নিত্যপণ্যসহ একটি দোকান ঘর। ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল দোকানে ৫০ হাজার টাকার মালামাল দিয়ে দোকানঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। এ সময় দোকান ঘর ও জমির কাগজপত্র জিন্নাত আলীকে হস্তান্তর করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন

×