বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত ১০০ ছাড়াল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ মে ২০২০ | ১০:৫২ | আপডেট: ২০ মে ২০২০ | ১১:১৩
বগুড়ায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ৫০তম দিনে বুধবার সর্বোচ্চ ১৭ জনের সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর এতে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১১২ জনে দাঁড়িয়েছে।
বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী সনাক্ত করা হয়।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, স্থানীয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে বুধবার যে ১৮৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭টি পজিটিভ। এর মধ্যে ৬ কারারক্ষীসহ সাতজন স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত। বাকি ১০ জন ঢাকা ও চট্টগ্রামফেরত। আক্রান্তদের মধ্যে বগুড়া সদরেই সবচেয়ে বেশি নয়জন রয়েছেন। এছাড়া শেরপুর উপজেলার ৩ জন, গাবতলী উপজেলার ৪ জন এবং বাকি একজনের বাড়ি রংপুর জেলায়। করোনা আক্রান্তদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছর। গত ১৬ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বগুড়া সদরে আক্রান্ত ৯জনের মধ্যে ছয় কারারক্ষী রয়েছেন। অপর তিনজন ঢাকাফেরত হলেও তাদের একজনের বাড়ি মালগ্রাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি দু’জনের ঠিকানা জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া শেরপুর উপজেলার যে তিনজন পজিটিভ হয়েছেন তাদের একজন পুলিশের কনস্টেবল। বাকি দু’জন ঢাকাফেরত এবং তাদের বাড়ি কসাইপাড়া ও খামারকান্দি এলাকায়।
জেলার গাবতলী উপজেলার এক দম্পতিসহ ঢাকাফেরত ৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত দম্পতির বাড়ি উপজেলার নাড়ুয়ামালা এলাকায়। বাকি দু’জনের একজনের বাড়ি দক্ষিণপাড়া এবং অপরজনের বাড়ি রামেশ্বরপুর গ্রামে।
অন্যদিকে বগুড়ায় মহাসড়কের পাশ থেকে গত ১৮ মে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা রংপুরের ৩৬ বছর বয়সী সেই ব্যক্তির শরীরেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। বর্তমানে তিনি বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যক্তির জ্ঞান ফিরেছে।
তিনি বলেন, সংজ্ঞাহীন থাকা অবস্থাতেই রংপুর থেকে তার ভাইসহ স্বজনরা মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নিতে এসেছিলেন। কিন্তু যেহেতু তার নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছিল সে কারণেই তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। ওই ব্যক্তির শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ নেই। কিন্তু তার পরেও যেহেতু নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে তাই তাকে গ্রিন জোন থেকে করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।