ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

করোনা পরীক্ষার ল্যাব নেই চট্টগ্রামের ৭ জেলাতে

করোনা পরীক্ষার ল্যাব নেই চট্টগ্রামের ৭ জেলাতে
×

প্রতীকী ছবি

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২০ | ১৫:৩৭

চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলার ৭টিতেই নেই করোনা শনাক্তের ল্যাব। পরীক্ষার সক্ষমতা না থাকায় এখন শত শত মাইল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে এক জেলার নমুনা নিতে হচ্ছে অন্য জেলায়। পরীক্ষার জন্য রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও ফেনীর নমুনা এখন আনতে হচ্ছে চট্টগ্রামে। চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের নমুনা নিতে হচ্ছে নোয়াখালীতে। একইভাবে বান্দরবানের নমুনা কক্সবাজারে ও ব্রাক্ষ্ণণবাড়িয়ার নমুনা নিতে হচ্ছে ঢাকাতে। এভাবে নমুনা পরিবহনে গুণগত মান নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে প্রবলভাবে। এদিকে বিভিন্ন জেলার নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে চট্টগ্রামে তৈরি হয়েছে জট। রিপোর্ট পেতেও লেগে যাচ্ছে আট থেকে ১০ দিন। এ কারণে চট্টগ্রামে বাড়ছে সংক্রমণ। বাড়ছে ঝুঁকি। বাড়ছে মৃত্যুও। উপায়ান্তর না দেখে চট্টগ্রাম থেকে শেষ পর্যন্ত তিন হাজার নমুনা পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মোস্তফা খালেদ আহমেদ ইতোপূর্বে সমকালকে বলেন, 'বিভাগের প্রায় সব জেলাতেই এখন করোনা রোগী বেশি। কিন্তু করোনার টেস্ট করতে হলে যে ধরনের সরঞ্জাম ও লোকবল দরকার তা নেই সব জেলা শহরে। তাই রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে চট্টগ্রামে। চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের নমুনা নিতে হচ্ছে নোয়াখালীতে। একইভাবে বান্দরবানের নমুনা কক্সবাজারে ও ব্রাক্ষ্ণণবাড়িয়ার নমুনা নেওয়া হচ্ছে ঢাকাতে।' চট্টগ্রামে জট তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করে সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, 'চট্টগ্রাম জেলা নিজেই এখন রেড জোনে। এর মধ্যে আসছে অন্য জেলার নমুনা। তাই কিছুটা জট তৈরি হয়েছে। এটি দূর করতে কয়েক হাজার নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।'

জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষা বাড়াতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ও শেভরন ডায়াগনস্টিককে ইতোপূর্বে অনুমতি দেয় সরকার। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষা শুরু করেছে। চবি এর আগে পরীক্ষা শুরু করলেও মাঝখানে তা বন্ধ ছিল। এখন আবার পরীক্ষা শুরু করেছে তারা। শেভরন ডায়াগনস্টিক এখনও পরীক্ষা শুরু করতে পারেনি। ১৮ জুন থেকে নমুনা পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। চট্টগ্রামে এখন নমুনা দেওয়া রোগীর প্রায় ৩০ শতাংশই হচ্ছে করোনা পজিটিভ। এ অবস্থায় শুধু জেলাতেই প্রতিদিন টেস্ট হওয়ার দরকার কয়েক হাজার। কিন্তু চবি ও ইম্পেরিয়াল যুক্ত হওয়ার পরও গড়ে পাঁচশ'র বেশি টেস্ট হচ্ছে না চট্টগ্রামে।

জানতে চাইলে বিআইটিআইডি হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ শাকিল আহমেদ বলেন, 'এখন রোগীর যে হার তাতে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ হাজার টেস্ট হওয়া উচিত এখানে। কিন্তু জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় আমরা সেটা পারছি না। বিআইটিআইডিতে যে মেশিন ও সরঞ্জাম আছে তা দিয়ে আট ঘণ্টা কাজ করা সম্ভব। কিন্তু আমরা কাজ করছি এখন ১৬ ঘণ্টা। তবুও কমাতে পারছি না জট। মেশিন ও মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো না গেলে শিগগির আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের।' চট্টগ্রামের সব হাসপাতালে পিসিআর মেশিন দিয়ে টেস্ট বাড়ানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নমুনা পরীক্ষার জট তৈরি হওয়ায় এখন এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরও রিপোর্ট পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। করোনা আক্রান্ত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার থেকে দ্বিতীয় নমুনা নেওয়া হয় ২ জুন। কিন্তু গতকাল ১৩ জুন পর্যন্ত নমুনার রিপোর্ট পাননি তিনি। নাসির উদ্দিন হায়দার বলেন, 'করোনার উপসর্গ ১৪ দিন পর দুর্বল হয়ে যায়। এখন নমুনার রিপোর্ট পেতে যদি ১০ থেকে ১২ দিন লেগে যায় তবে এই রিপোর্ট দিয়ে আমি আর কী করব।' নমুনা পরীক্ষা ও রিপোর্ট নিয়ে এমন দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে এখন আর টেস্ট করাতেও উৎসাহ পাচ্ছেন না চট্টগ্রামে। কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন, টেস্ট না করে কেউ যদি যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করে তবে করোনা আরও ভয়াবহ রূপে হাজির হবে বন্দর নগরীতে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'করোনাকে দূর করতে হলে টেস্ট বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই আমাদের। নমুনা পরীক্ষা করে যত তাড়াতাড়ি রোগীকে আইসোলেশনে নেওয়া যাবে ততই নিরাপদ হবে তার পরিবার, তার চারপাশ। তাই প্রতিটি জেলাতে টেস্ট করতে হবে। এক জেলার নমুনা আরেক জেলাতে আনা-নেওয়ার সময় গুণগতমানও নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এতে সময়ও লাগে অনেক বেশি।'

আরও পড়ুন

×