ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শীতে গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে

শীতে গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে
×

নীলফামারীর সৈয়দপুর পোস্ট অফিস মোড়ে শনিবার শীতের পোশাক কিনতে মানুষের ভিড় সমকাল

 আমিরুল হক, নীলফামারী

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ | ২৩:১৯

‘অ্যাঙ্কা কনকনা শীতে মায়ের বাদে অ্যানা সোয়েটার ধরি যাবার চাওছিনু। দোকানদার একনা সোয়েটারের দাম চাইছে ৫০০ টাকা। কিনি গেলে হামার সারা দিনের শোগ ওজগার (আয়) এইঠে চলি যাইবে বাহে। বউ ছাওয়াক কাল কী খাওয়াইম?’ নীলফামারীর সৈয়দপুর পোস্ট অফিস মোড়ে রেলগুমটির কাছে  মায়ের জন্য সোয়েটারের দরদাম করছিলেন অটোরিকশাচালক ওমর ফারুক। সেখানে গরম কাপড়ের চড়া দাম দেখে কথাগুলো বলেন তিনি।
উত্তরের জেলা নীলফামারীতে প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা, বাড়ছে শীত। প্রচণ্ড ঠান্ডায় একটু উষ্ণতার জন্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ চেষ্টা করছেন কম দামে গরম কাপড় কিনতে। এ জন্য ছুটছেন ফুটপাতের দোকানে। তাদের অভিযোগ, আগের বছরের চেয়ে শীতের পোশাকের দাম এবার তুলনামূলক বেশি। সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন দোকানিরা।
গতকাল শনিবার জেলার বড় মাঠ, সৈয়দপুর রেললাইনের দুই পাশ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে শীত পোশাকের বেচাকেনা। ক্রেতার চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দামে মিলছে শীতের বাহারি পোশাক। এদিকে সরকারিভাবে ত্রাণের কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
ফুটপাতের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছর যে সোয়েটার কেনা গেছে ২০০-২৫০ টাকায়, এবার তা ৫০০ টাকার বেশি। শিশুদের সোয়েটারের দামও প্রায় দ্বিগুণ। আগে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় ভালো মানের মাফলার পাওয়া যেত। এখন বিক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। দাম বেড়েছে কানটুপি ও মোজার। চাদর ও কম্বলের দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বেশি দামেই এসব কিনছেন ক্রেতা।
পাঁচমাথা মোড়ের রেলগুমটি এলাকায় সন্তানের জন্য পোশাক কিনতে এসেছিলেন আতিক আলম। তিনি বলছিলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে চাকরি করেন তিনি। বড় বিপণিবিতানে গিয়ে সন্তানের জন্য শীতের পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর। রেললাইনের পাশে ফুটপাতে এসেছেন সন্তানের জন্য গরম কাপড় কিনতে। বিক্রেতারা বিপণিবিতানের মতো দাম চাচ্ছেন।
এবার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পোশাকের গাঁইটের (বেল) দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার কথা জানান ফুটপাতের বিক্রেতা মোখছেদুল আলম। তিনি বলেন, ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকার সোয়েটারের গাঁইট এ বছর ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। জ্যাকেটের গাঁইটের দাম ২০ হাজার থেকে ২৫ হজার টাকা ছিল; বেড়ে হয়েছে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। এ কারণে ক্রেতাকে বেশি দামে শীতের পোশাক নিতে হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর থেকে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত ১১ হাজার ২০০টি কম্বল বরাদ্দ মিলেছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে এক হাজার ২০০টি ইউএনওর মাধ্যমে ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দের ১৮ লাখ টাকার কম্বল কিনে ইউপি চেয়াম্যানদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করা হয়। পরে ১০ হাজার কম্বল ও ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে।
সৈয়দপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মির্জা মো. আবু ছাইদ বলেন, উপজেলায় প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। প্রথম ধাপে মাত্র ২০০ কম্বল ও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। এগুলো বিতরণ শেষ হয়েছে। নতুন যে বরাদ্দ এসেছে, তা উপজেলায় চাহিদার তুলনায় কিছুই না।
জানা গেছে, এবার প্রচণ্ড শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদী অববাহিকার ছিন্নমূল মানুষ। পুরোনো শীতবস্ত্রের চড়া দামের কারণে অনেকের পক্ষে তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক স্থানে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উদ্বেগে আছেন তারা। জলঢাকার কৈমারি ইউনিয়নের বাসিন্দা বিধান চন্দ্র রায় বলেন, অন্য বছর আগেভাগে স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো রাতে কম্বল বিতরণ করত। এবার এখনও পাননি। কোথাও বিতরণের খবরও শোনেননি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, শীতে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলায় প্রথম ধাপে ১২শ কম্বল ও ছয়টি উপজেলায় ৩ লাখ করে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণও শেষ হয়েছে। আরও ১০ হাজার কম্বল ও ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। শিগগিরই বিতরণ শুরু হবে। নতুন করে কম্বলের চাহিদা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×