ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগে মানুষ

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগে মানুষ
×

বন্যার পনিতে ডুবে গেছে শহরের বেশিরভাগ এলাকা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২০ | ০৪:০৬ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২০ | ০৪:৩১

সুনামগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পনি বেড়ে বিপদ সীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা যাদুকাটার পানি বিপদ সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার বেশিরভাগ এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে।

বন্যার পানি বাড়ায় উঁচু এলাকায় হাঁটু সমান, নিচু এলাকার ঘরবাড়ি কোমর থেকে গলা সমান পানিতে ডুবে গেছে। ফলে জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ছাড়া অন্য সকল উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার। তবে এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে উজানের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে। ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে জেলাজুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সীমান্তবর্তী উপজেলা সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকার বাসিন্দারা। পাহাড়ি ঢলে গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ।

জেলা প্রশাসন থেকে ৪৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন জানানো হলেও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানা গেছে। পানিবন্দি এসব মানুষ চরম জ্বালানি ও খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা শেলী রানী দাস বলেন, ‘ঘরে চাল নেই, গ্যাসের চুলাও ডুবে গেছে। চুলা মেরামত করার মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না। লাকড়িও পাচ্ছি না। কী যে করি, কোথায় যাই। সকালে বাচ্চাদের ব্রেড দিয়েছিলাম। দুপুরে, রাতে কী খাওয়াবো জানি না।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, পানিবন্দি মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনকে আশ্রয় কেন্দ্র করা হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় ৪১০ মেট্রিকটন চাল এবং নগদ ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় ৪ হাজার ৭৫২টি পরিবারের জন্য শিশু খাদ্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে বন্যা আক্রান্তদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×