ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

টেকনাফ স্থলবন্দরে পড়ে আছে অর্ধ লাখ কাঠ

টেকনাফ স্থলবন্দরে পড়ে আছে অর্ধ লাখ কাঠ
×

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০ | ০২:৪৫

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দুই মাস ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে অর্ধ লাখ পিস কাঠ পড়ে আছে। লকডাউনের কারণে মিয়ানমার থেকে আসা এসব কাঠ সরবরাহ করা যায়নি। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব কাঠ থেকে পুরো চার্জ আদায়ে অটল রয়েছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন দুঃচিন্তায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় বন্দর কর্তৃপক্ষ গত দুই মাসের চার্জ মওকুফ করে। চট্টগ্রাম বন্দর সরকারের নিদের্শনায় ৫ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। যেখানে করোনা বিস্তার ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময়ে বন্দরে যেসব কন্টেইনারবাহী জাহাজ এসেছে এবং আসবে সেসব কন্টেইনার ছুটির সময়ে খালাস করা হলে তার বিপরীতে শতভাগ চার্জ মওকুফ এর ঘোষণা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ে অটল। 

টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট চেয়ারম্যান বরাবর কাঠের চার্জ মওকুফ চেয়ে ৭ জুন একটি লিখিত আবেদন করেন টেকনাফ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। তা এখনও সুরাহা না হওয়ায় চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। 

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, করোনা রোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষনা করায় গত দুই মাস লকডাউনে থাকতে হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা কোনো কাঠ সরবরাহ করতে পারেনি। তার মাঝে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কাঠ থেকে গেল দুই মাসের অতিরিক্ত চার্জ আদায়ে অটল। ফলে ব্যবসায়ীদের লাখ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা চার্জ মওকুফ চেয়ে আবেদনও করেছি তা এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। এইভাবে চলতে থাকলে কাঠ ব্যবসা অচল হয়ে পড়বে। ফলে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হবে।  

এদিকে স্থলবন্দর সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় অর্ধ লাখ পিস বিভিন্ন প্রকারের কাঠ টেকনাফ স্থলবন্দরে পড়ে আছে। এসব কাঠ দেখভাল করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাঠগুলো লকডাউনের কারণে সরবরাহ দিতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব কাঠ থেকে কোনো অতিরিক্ত চার্জ আদায় করেনি। করোনার আগে যে পরিমাণ চার্জ আদায় করা হতো, তা নেওয়া হচ্ছে। তবে মিয়ানমার কাঠ রপ্তানি না করলেও সেখান থেকে কোটি টাকার কাঠ টেকনাফ স্থলবন্দরে আসছে। তার বিপরীতে সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে। 

কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মনির বলেন, লকডাউনের কারণে আমার লাখ টাকার কাঠ বন্দরে পড়ে আছে। এসব কাঠ বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ নষ্ট হওয়ার পথে। তার উপরে বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব কাঠ থেকে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করছে। আমার মত এখন অনেক কাঠ ব্যবসায়ী দুঃচিন্তায় আছেন।  

এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘কাঠ থেকে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের বিষয়টি সর্ম্পূণ মিথ্যা। আমরা আগের নিয়মে চার্জ নিচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারের নির্দশনার কোনো চিঠি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে চার্জ মওকুফের বিষয়ে কিছু জানি না।

তিনি আরও বলেন, তবে টেকনাফ সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে থেকে কাঠের চার্জ মওকুফের আবেদন পেয়েছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি।


আরও পড়ুন

×