হরিনাকুণ্ডুতে পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি
হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০ | ০২:৫২
ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডুতে অবৈধভাবে পুকুর খননের ফলে প্রায় ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন শত শত কৃষক। পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ওইসব জমি। এছাড়াও ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খননের ফলে পরিবর্তন হয়ে গেছে জমির শ্রেণিও। এ অবস্থা উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের পদ্মবিলের মাঠে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, ওই গ্রামের প্রভাবশালী ডালিম ও দলু নামে দুই ব্যক্তি অনেকটা গায়ের জোরে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছে। ভেকু মেশিন দিয়ে অন্তত ১০-১৫ ফুট গভীর করে এসব পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাছাড়া পুকুরগুলোর সীমানা অনেক উঁচু করে দেওয়ায় ফসলি এসব হাজার হাজার বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
পায়রাডাঙ্গা গ্রামের মুক্তার হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার মাত্র ২৬ কাঠা জমি ছিল একমাত্র সম্বল। জমিতে যে ধান হতো তাই দিয়ে চলতো সারা বছরের খাবার। কিন্তু অবৈধভাবে পুকুর কাটার ফলে তার দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
মুক্তার হোসেনের মতো উপজেলার ভালকী ও পায়রাডাঙ্গা গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এক সময়ের ধানী জমি এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। পুকুর কাটার ফলে তিন হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে উপায়হীন কৃষক পরিবারগুলো প্রতিকার পেতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এলাকাবাসির অভিযোগ, অবৈধভাবে পুকুর খননের ফলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ফসলি হাজার হাজার বিঘা জমি এখন অনাবাদী হয়ে পড়ছে।
পায়রাডাঙ্গা গ্রামের আক্তারুজ্জামান জানান, তাদের গ্রামে ৮-১০টি বিল রয়েছে। দুই মৌসুমে এই বিলে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন হতো। কিন্তু পায়রাডাঙ্গা গ্রামের আইয়ূব মন্ডলের ছেলে ডালিম মন্ডল ও জব্বার মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দলু মন্ডল যত্রতত্র পুকুর কাটছে। ফলে গোটা বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত পুকুর মালিক ডালিম ও দলু জানান, তারা তাদের জমিতে পুকুর কাটছেন। পুকুর কাটার কারণে কোনো কৃষকের ক্ষতি হলে তারা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেবেন।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা নাফিস সুলতানা জানান, আমি অসুস্থ থাকার কারণে অভিযোগটি পায়নি। তবে জেলা প্রশাসন থেকে আমাকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার অভিযোগকারী ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের আমি ডেকেছিলাম। অভিযুক্তরা ৫ দিনের সময় নিয়েছেন। এর মধ্যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- পুকুর
- ফসলি জমি
- খুলনা
- ঝিনাইদহ
- হরিণাকুন্ডু