আট বছরেও শুরু হয়নি হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নপূরণের কাজ
নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২০ | ০৯:৪৭ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০ | ১১:০৭
বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ূন আহমেদ একটি ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু পূরণ করে যেতে পারেননি। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর বারবার তার পরিবারের সদস্যরা হুমায়ূন আহমেদের সেই স্বপ্ন পূরণের কথা বললেও গত ৮ বছরেও কাজ শুরু করতে পারেননি। একইসঙ্গে প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের নামে নুহাশপল্লীতে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কথা কথা বলে আসছেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। সেটার কাজও শুরু হয়নি।
মৃত্যুর ৮ বছরেও ক্যান্সার হাসপাতাল ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে না পারার ব্যর্থতাকে লেখকের স্ত্রী শাওন পারিবারিক সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন।
নুহাশপল্লীর লিচুতলায় চিরনিদ্রায় শায়িত হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম প্রয়াণ দিবসে রোববার তার সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা ও মোনাজাত শেষে এ প্রসঙ্গে শাওন বলেন, নূহাশপল্লী একটি পারিবারিক সম্পদ। পারিবারিক সম্পত্তির মধ্যে এ রকম কিছু একটা করতে হলে পরিবারের সবার মতামত নিতে হবে। ওই জায়গাটিতে এখনও আমি অপারগ হয়ে আছি। আমি এখনও সবাইকে একত্র করতে পারিনি।
তিনি বলেন, পারিবারিক সমন্বয়হীনতার কারণে জাদুঘরটি নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি পরিবারে সবার সঙ্গে আলোচনা করে জাদুঘরটি নির্মাণ করার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাদুঘর নুহাশল্লীতেই হবে এটা নিশ্চিত করে বলছি।
শাওন বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন এতিমখানার এতিমদের নিয়ে কোরআনখানির ব্যবস্থা করা হয়। এবার তা সীমিত আকারে হয়েছে। কোরআনখানি ও আপ্যায়ন করতে যে টাকা ব্যয় হতো সেই টাকাগুলো করোনাকালে যারা চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এমন দুইশ’ পরিবারের মধ্যে দেওয়া হয়েছে।
লেখকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্ষাকে তিনি উদযাপন করতেন। আমরা বৃষ্টিতে ভিজি আর তিনি বর্ষা উদযাপন করতেন, যা তার ভক্তরাও জানে। বৃষ্টি নিয়ে তার অনেক গান রয়েছে, অনেক লেখা রয়েছে। চলচ্চিত্রেও বর্ষাকে তিনি তুলে ধরেছেন।
করোনাভাইরাসের কারণে এবার হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবসের আয়োজন সীমিত আকারে করা হয়েছে। ভক্ত, অনুরাগী, লেখক প্রকাশক কিংবা দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাওন তার দুই ছেলে নিশাত ও নিনিতকে সঙ্গে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সমাধির পাশে গিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তারা।
এ সময় শাওনের বাবা মোহাম্মদ আলী, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাসহ কয়েকজন প্রকাশক ও নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
করোনার কারণে প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ছোট্ট পরিসরে কোরআনখানির আয়োজন করা হয় বলে জানান নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল।