পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও পাঠদান
পরিত্যক্ত ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এ অবস্থাতেই শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। সম্প্রতি হাবিবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তোলা- সমকাল
সনি আজাদ, (চারঘাট) রাজশাহী
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৩
রঙের প্রলেপ উঠে গেছে অনেক আগেই। প্রায়ই খসে পড়ে পলেস্তারা। দেয়াল, ছাদ ও পিলারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল। কোথাও কোথাও বের হয়ে এসেছে রড। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এমনই বেহাল চারঘাট উপজেলার হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১৮। ১৯৯৩ সালে তিন কক্ষের পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। জরাজীর্ণ ভবনটি ২০১৮ সালে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। ভবন নির্মাণের সময় ৩৯ সেট বেঞ্চ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২২ সেট বেঞ্চ নষ্ট হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আর অপ্রতুল বেঞ্চে চলছে পাঠদান।
অতি সম্প্রতি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে দেয়াল তুলে আলাদা করে অফিস কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। সংকুচিত কক্ষটিতে গাদাগাদি করে প্রধান শিক্ষকসহ চার সহকারী শিক্ষকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কক্ষগুলোর ফ্যানের রডে মরচে ধরে নাজুক অবস্থা। যে কোনো সময় খুলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখা গেছে, একটি বেঞ্চে পাঁচ-ছয়জন গাদাগাদি করে বসেছে।
কথা হয় সহকারী শিক্ষক শরিফা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে প্রথম শ্রেণির ক্লাস চলাকালে রডসহ ফ্যান খুলে আমার ঘাড়ে পড়ে। চিকিৎসা নিলেও পুরোপুরি সুস্থ হইনি। এ ধরনের ঘটনা ছোট শিশুদের সঙ্গে ঘটলে অভিভাবকদের কাছে আমরা কী জবাব দেব?’
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান জানায়, ‘টেলিভিশনে, বইয়ের পাতায় কত সুন্দর সুন্দর ক্লাসরুম ও বেঞ্চ দেখি! আমাদেরটা উল্টো। লেখার সময় ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়। ভাঙা বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হয়। ঠিকমতো লেখা যায় না।’
অভিভাবক রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘বাসার পর স্কুল বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, এমনটাই জানতাম। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে বাচ্চারা নিয়মিত স্কুলে আসছে না। আমার মেয়েও ভয় পায় যদি ঘর ভেঙে পড়ে। এ জন্য মেয়েকে ক্লাসে রেখে অপেক্ষা করছি।’
নিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়টির অবস্থা খুবই নাজুক। কখন দুর্ঘটনা ঘটে, বলা যায় না। না আছে ক্লাসরুম, না আছে বেঞ্চ। পড়াশোনার পরিবেশ নেই। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কমিটিকে জানানো হয়েছে।’
প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, ‘ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছি না। ১৯৯৪ সালের পর আর বেঞ্চও পাওয়া যায়নি। ১৭ বেঞ্চে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে। নানা সংকটে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। কতদিন এভাবে চালিয়ে নিতে পারব, জানি না।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রকৌশলী এসে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। আমরাও কয়েক বছর ধরে ভবনের জন্য আবেদন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। এ ইউনিয়নের ছয়টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের বরাদ্দ এসেছে। হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ মেলেনি। নতুন ভবন না হওয়ার কারণে বেঞ্চের বরাদ্দও হচ্ছে না।’
- বিষয় :
- ভবন ধস
