‘ভালো রাস্তা কেটে কোন কারণে সলিং দেওয়া হয়েছিল বুঝি না’
ইটের সলিং উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক। সম্প্রতি তোলা ছবি সমকাল
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৯
দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক। যা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ককে যুক্ত করেছে। পাশাপাশি কুমিল্লার দুই উপজেলা দেবিদ্বার ও চান্দিনাকে যুক্ত রেখেছে সড়কটি। তবে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক অতিক্রম করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, দেবিদ্বার উপজেলা সদরের প্রবেশমুখে সাহেববাড়ি থেকে কলেজ রোড পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা খানাখন্দের কারণে চলাচলের অনুপযোগী। বাকি ১৪ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই ভাঙাচোরা। খালের পাশ দিয়ে সড়কটি নির্মিত হওয়ায় কোথাও কোথাও বৃষ্টিতে মাটি সরে সরু হয়ে গেছে। এতে পাশাপাশি দুটি গাড়ি অতিক্রম করতে খালে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালে চার কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সড়কের সংস্কার কাজ হয়েছিল। এর পর কয়েক দফায় সংস্কারের নামে অর্থ বরাদ্দ হলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগসাজশে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ২০২১ সালের জুন মাসে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে ২০২২ সালের মার্চে নিউমার্কেট থেকে বারেরা বটগাছ মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার ১৮ ফুট চওড়া পিচঢালা রাস্তা কেটে সেখানে ১২ ফুট সরু ইটের সলিং বসানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার সাবেক এমপি আ ক ম বাহারের নামসর্বস্ব একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ করে।
সেসময় এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে সওজের তৎকালীন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন সাকিব সরেজমিন গিয়ে জানান, ছয় মাস পর নতুন বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি আবারও পিচের ঢালাই করা হবে। কিন্তু তিন বছর পার হলেও সেই পিচের ঢালাই আর হয়নি। এদিকে ইটের সলিং উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এখন প্রতিদিনই এই সড়কে অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হচ্ছে। ডেলিভারি রোগী বা গুরুতর অসুস্থদের নিয়ে চালকরা এই পথে যেতে ভয় পান। সাধারণ যাত্রীদেরও শারীরিকভাবে কষ্ট সহ্য করতে হয়।
চান্দিনা রোডের সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘স্ট্যান্ড থেকে সাহেববাড়ি পর্যন্ত গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হয়। অনেক অসুস্থ যাত্রী এই সড়ক দিয়ে যেতে চান না। তিন বছর ধরে এই ভোগান্তি সহ্য করছি। ভালো পিচের রাস্তা কেটে কোন কারণে তড়িঘড়ি করে ইটের সলিং দেওয়া হয়েছিল বুঝি না।’
সড়কটির পাশে সরকারি খাদ্যগুদাম, সার ও বীজের গুদাম, সরকারি বীজ সংরক্ষণ অফিস, এএসপি (সার্কেল) অফিস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, তিনটি হাসপাতাল, স্কুল-মাদ্রাসাসহ অসংখ্য স্থাপনা রয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃজেলা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, অটোরিকশা চলাচলের কারণে সড়কটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। ফলে দ্রুত সংস্কার না হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কের কারণে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ব্যবসায়ীরা মালপত্র আনা-নেওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, কৃষকও স্বল্প সময়ে পণ্য মোকামে নিতে পারছেন না। সরকার যদি দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না করে তাহলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞার ভাষ্য, সড়কটি দেখেছেন তিনি। অবস্থা খুবই খারাপ। পিচ ঢালাইয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।
- বিষয় :
- রাস্তা খোঁড়া