৫ বছর পর ফের ভাঙন পদ্মাসেতু প্রকল্প এলাকায়
পদ্মাসেতু প্রকল্প এলাকায় ভাঙন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২০ | ০৮:০৩
পাঁচ বছর পর আবারও ভাঙনের কবলে পড়লো পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড। শুক্রবার দুপুরে ভাঙনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগস্থ পদ্মাসেতু প্রকল্প এলাকায় গার্ডার, স্লাব ও পাইপসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, ২০১৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে কয়েক দফা ভাঙনের কবলে পড়ে পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট রাতে পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন এলাকায় আকস্মিক ভাঙনে ৪০ ফুট এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এরপর ২৬ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় ভাঙনে ৩শ’ ফুট এলাকা বিলীন হয়। এ সময় পদ্মাসেতু প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মিকচার মেশিন ও পন্টুনের একটি অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
পদ্মাসেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশী (মূল সেতু ) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, ২০১৫ সালে ভাঙন দেখা দেওয়ার পরই প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলাসহ ভাঙন প্রতিরোধে করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
প্রকল্পের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, ২০১৫ সালের পদ্মার ভাঙনের পর গত ৫ বছরে আর ভাঙন দেখা যায়নি। কিন্তু এবার পদ্মায় পানি প্রবাহের উচ্চতা ২০ বছর আগের রেকর্ড ছুয়েছে। পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির সঙ্গে প্রচণ্ড গতিতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
প্রকৌশলীদের মতে, যেসব স্থানে ঘূর্ণায়মান স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে সেখানে প্রথমে নদীর তলদেশের মাটি সরে যায়। এরপরই আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ।
সেতু সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ সালে পদ্মাসেতু প্রকল্পের মূল ওয়ার্কশপের ক্ষতি না হলেও কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে মালামালসহ সরঞ্জাম এবং সিমেন্ট, পাথরের মিকচার প্লান্ট মেশিনস্থলের প্লান্ট সাইড-২ এলাকা বিলীন হয় পদ্মায়। এতে ভাঙন প্রতিরোধ করে পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ভাঙন এলাকায় তীর সংলগ্ন পদ্মায় সাড়ে ৪ লাখ জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হয়।
পদ্মাসেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, পদ্মা নদীর স্রোত মাওয়া প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে ঘূর্ণায়মান স্রোত দেখা দেওয়ায় নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।