ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু, মামলা থেকে রায় সবই অনলাইনে

চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু, মামলা থেকে রায় সবই অনলাইনে
×

ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | ২০:৫৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:০৯

চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ই-পারিবারিক আদালত। এখন থেকে ঘরে বসেই পারিবারিক মামলার আবেদন, নথি দেখা, তারিখ জানা, এমনকি অনলাইনেই সাক্ষ্য দেওয়া যাবে। বিচারপ্রার্থীদের জন্য এটিকে বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরা। 

রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এ আদালতের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।

আদালত সূত্র জানায়, ই-পারিবারিক আদালতে পাঁচ ধরনের মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এগুলো হলো-বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার, ভরণপোষণ, মোহরানা এবং সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব। বাদী–বিবাদী, আইনজীবী, আদালতের কর্মী-সবাই একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকতে পারবেন। একটি মামলার নথি যতবার প্রয়োজন, ততবার দেখা যাবে। নথি হারানোর শঙ্কাও থাকবে না।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, ই-পারিবারিক আদালত বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমানোর একটি বড় উদ্যোগ। আবেদন থেকে শুরু করে আদালতের প্রতিদিনের কার্যক্রম-সবই অনলাইনে হবে। খুদে বার্তায় তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে, দরকারে অনলাইনেই হাজিরাও দেওয়া যাবে। ডিজিটাল ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত কাগজপত্রের কাজও চালু থাকবে। তবে অনলাইন ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তি অনেক দ্রুত হবে।

আদালত সূত্র জানায়, ‘ই ফ্যামিলি কোর্ট’ নামের ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করলেই মামলা করা যাবে। আইনজীবীর ওকালতনামা, বার কাউন্সিল সনদসহ সব নথি অনলাইনেই আপলোড থাকবে। মামলার অগ্রগতি ও রায় দেখা যাবে ড্যাশবোর্ডে। বাদী–বিবাদীরা যে কোনো স্থান থেকেই অনলাইনে হাজিরা দিতে পারবেন। আইনজীবীরা যে কোনো সময় মামলার খসড়া তৈরি করে রাখতে পারবেন। বারবার নথি তুলতে হবে না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন,‘অনেক সময় পুরোনো নথি খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন সব তথ্য অনলাইনে থাকায় বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী উভয়েরই ভোগান্তি কমবে।’ 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, ‘এটি পুরোপুরি পেপারলেস আদালত। পারিবারিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হলো। বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হবে না।’

আরও পড়ুন

×