সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২০ | ০৬:৪৯ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০ | ০৬:৫৩
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) কুয়াকাটা ল্যন্ডিং স্টেশনের (সিমিউই-৫) পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়ার ঘটনায় মহিপুর থানায় মামলা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টায় কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার মো. হারুন অর রশিদ এ মামলাটি করেন।
এ ঘটনায় মহিপুর থানা পুলিশ সোমবার সকালে কুয়াকাটার আলীপুর থেকে ব্যবসায়ী ও প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক আবুল হোসেন ওরফে হোসেন মোল্লা ও তার ব্যবসায়ীক সঙ্গী আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। ওই মামলায় পাঁচজনের নামসহ আরও অজ্ঞাত তিন জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়।
সোমবার কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ইনচার্জ ডিজিএম মো. তারিকুল ইসলাম জানান, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের ইন্টারনেট সেবা সচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংযোগ কাটা পড়ে প্রায় ১৩ ঘন্টা পর্যন্ত কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ থাকায় কি পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারিকুল সমকালকে বলেন, সংযোগ পুনরুদ্ধারে প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া ক্যাবল কাটা পড়ার পর থেকে দীর্ঘ ১৩ ঘন্টায় পার সেকেন্ডে ৭৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বন্ধ থাকার ফলে বিএসসিসিএল কি পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা এখনও টাকার অংকে পরিমাপ করা যায়নি। সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ার কয়েক ঘন্টা পরই ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।
সোমবার কুয়াকাটা ল্যাডিং স্টেশনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএসসিসিএল এমডি বলেন, সংযোগ আপাতত পুনরুদ্ধার হলেও পুরোপুরি সচল করতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে বলে।
কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ২ কিলোমিটার দুরত্বে লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর বাজার সংলগ্ন কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ. বারেক মোল্লা ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লার ভাই আবুল হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিউদ্যোগে একটি জমির উন্নয়ন কাজ করছিলেন। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত না করে খননযন্ত্র দিয়ে কাজ করার সময় ল্যান্ডিং স্টেশনের পাওয়ার ক্যাবল কেটে সেসময় আগুন ধরে যায়। এরপর তারা কাজ ফেলে রেখে চলে গেলেও ততক্ষণে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে সারা দেশের ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মামলার বাদী কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার হারুন অর রশিদ জানান, তাদেরকে অবহিত না করে বেড়িবাঁধ লাগোয়া মাটির তলায় রাখায় সাবমেরিন ক্যাবল খননযন্ত্র দিয়ে কেটে ফেলেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল। এমন সংকট তৈরি করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জমান বলেন, সাবমেরিনের ক্যাবল কাটার ঘটনায় সোমবার রাত তিনটার দিকে একটি মামলা হয়েছে। আমরা সোমবার সকালে দু'জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি।