ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হেঁটে যাওয়ার দুর্ভোগ ঘুচেছে বন্দির স্বজনদের

হেঁটে যাওয়ার দুর্ভোগ ঘুচেছে বন্দির স্বজনদের
×

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার রাস্তায় একটি গলফ কার। গতকাল তোলা সমকাল

 গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ৩৩০ বিঘা জমির ওপর পাশাপাশি পৃথক ৪টি কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। প্রতিটি কারাগারেই ধারণক্ষমতার অন্তত তিনগুণ বেশি কয়েদিকে রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই বন্দিদের স্বজনরা দেখা করতে যান কারাগারে। প্রধান ফটক থেকে সাক্ষাৎ কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছতে অন্তত এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয় স্বজনদের। অনেক সময় প্রবীণ নারী পুরুষ কখনও আবার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যান। প্রধান ফটক থেকে স্বজনের কাছে পৌঁছাতে ভোগান্তির শিকার হতে হয় দর্শনার্থীকে। এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দিতে কারা কর্তৃপক্ষ চালু করেছে চারটি আধুনিক গলফ কার বা ছোট বৈদ্যুতিক যান। 

নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ সিটের তিনটি ও ১২ সিটের একটি গলফ কার কিনেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ওই সব কারে চড়ে কারাগারের মূল ফটক থেকে সাক্ষাৎ কক্ষ পর্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন বন্দির দর্শনার্থী স্বজনরা।

কারা সূত্র বলছে, মানবিক দিক বিবেচনা করে গলফ কারগুলো কেনা হয়েছে। এসব কারের সুবিধা ভোগ করবেন বন্দির স্বজনরা। গাড়িতে যাওয়া-আসায় ২০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। তবে শিশুদের জন্য ফ্রি।

তিন দফায় আনা হয় গাড়িগুলো। কারা সূত্র বলছে, মাস দুয়েক আগে একটি গাড়ি কিনে সেবা চালু করা হয়। জানুয়ারিতে আরও দুটি যুক্ত হয়। সপ্তাহখানেক আগে আরও একটি যুক্ত করে এখন মোট চারটি গাড়ি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চারটি গাড়ি দিয়ে পুরোপুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে। 

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন সমকালকে বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে ৪টি গলফ কার কেনা হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকা করে ৮ সিটের তিনটি কার ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা মূল্যে ১২ সিটের একটি কার কেনা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেগুলো চালু করা হয়েছে। প্রধান ফটক থেকে সাক্ষাৎ কক্ষ পর্যন্ত যেতে নারী-শিশু, অসুস্থ ও বয়স্ক দর্শনার্থীদের বেশি কষ্ট করতে হতো। 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কারা ফটকে আসেন আব্দুল হাই নামে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। দেড় বছর ধরে তাঁর ছেলে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি। প্রতিমাসেই তাকে দেখতে একবার করে আসেন আব্দুল হাই। তিনি বলেন, জামালপুর থেকে এসে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারের প্রধান ফটক থেকে সাক্ষাৎ কক্ষ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া খুব কষ্টের ছিল। আজ সেই কষ্ট নেই। কর্তৃপক্ষ নতুন গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। এটা খুবই স্বস্তিদায়ক ছিল। 

নাটোর থেকে এসেছিলেন আমেনা বেগম ও তাঁর ছেলে রোহান ইসলাম। আমেনার স্বামী কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি ৬ মাস ধরে। এর আগে দুইবার তিনি স্বামীকে দেখতে এসেছেন। তখন প্রধান ফটক থেকে হেঁটে যেতে হয়েছে তাঁকে। গতকাল এসে ভিন্ন চিত্র দেখে তিনি খুবই খুশি। আমেনা বলেন, আসার পর পরই নতুন একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সাক্ষাৎ কক্ষের সামনে। সেখানে স্বামীর সঙ্গে দেখা করে আবার ওই গাড়িতেই প্রধান ফটকে ফিরে আসেন। ভালো লেগেছে কর্তৃপক্ষের এ সেবা। 

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারাগারে এখন ধারণ ক্ষমতার তিনগুণেরও বেশি কয়েদি রয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমরা আরও গলফ কার বাড়াব। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা এ সেবা চালু করেছি। 

আরও পড়ুন

×