রংপুর সিটি করপোরেশন
প্রতীকী জানাজাতেও টনক নড়েনি
রংপুরের জাহাজ কোম্পানি সাতমাথা সড়ক বেহাল
জাহাজ কোম্পানি-সাতমাথা সড়ক পুনর্নির্মাণের দাবিতে গতকাল শনিবার মানববন্ধন-সমাবেশ করে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি সমকাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫৪ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ১১:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
জনদুর্ভোগের আরেক নাম যেন রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়-সাতমাথা সড়ক। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ ভাঙা সড়কের কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নেমেছে। বড় বড় গর্তসহ সড়কজুড়ে খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও সংস্কারে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ। এর আগে ‘কর্তৃপক্ষ মারা গেছে’ মর্মে সড়কের ওপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত বছরের ২০ জুলাই অভিনব প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতীকী গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। তার পরও রংপুর সিটি করপোরেশনের (আরসিসি) যেন কোনো বিকার নেই। বাধ্য হয়ে সড়ক পুনর্নির্মাণের দাবিতে গতকাল শনিবার সাতমাথা এলাকায় মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই সড়ক সংস্কারের ঘোষণা না এলে ঈদের পর অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
সাতমাথা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে মানববন্ধনে মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নীপেন্দ্র নাথ রায়, আমিন উদ্দিন, মসিউর রহমান, মাহফুজার রহমান, আশিকুল ইসলাম, রংপুর চেম্বারের সাবেক পরিচালক শাহজাহান বাবু, সাতমাথা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি লতিফ সরকার, সাতমাথা উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, শিক্ষার্থী তুহিন প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, চব্বিশের জুলাইয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণের পর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ থমকে আছে। রংপুর নগরের জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথা সড়ক দিয়ে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার একাংশের মানুষ চলাচল করেন। অথচ বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দেড় বছর ধরে খানাখন্দে ভরা। এ নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সড়কটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে আরসিসির ঘোষণা চায় রংপুরবাসী। অন্যথায় ঈদের পর সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে প্রশস্ত এই সড়কের বেহাল দশা। কোনো কোনো জায়গায় সৃষ্ট বড় গর্তে প্রায়ই রিকশা, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলে এসব গর্তে জমে থাকে পানি, আর শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্টি হয় প্রচণ্ড ধুলা। ফলে বছরজুড়েই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রোগী নিয়ে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক সোহাগ মিয়া বলেন, রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়াসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিনই রোগী নিয়ে রংপুর মেডিকেলে আসতে হয়। সাতমাথা থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত বেহাল সড়কের ঝাঁকুনিতে রোগী বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
সড়কটির রেলগেট এলাকার ইজিবাইক শোরুমের ম্যানেজার ফারুক আলম লাবু বলেন, শুধু এই সড়কের কারণে ব্যবসায় ধস নেমেছে। বৃষ্টি হলে দোকানের সামনের গর্তে পানি জমে যায়। ক্রেতা আসতে না পারায় বিক্রি কমে গেছে।
এ ব্যাপারে আরসিসি প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখানকার কোনো সড়কের অবস্থাই ভালো না। এসব সড়ক নির্মাণ ও মেরামতে পাঁচ থেকে সাত হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। সড়ক, নালা ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণে এক হাজার ৬৫৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রাথমিকভাবে যেসব সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, সেগুলো ঠিক করার জন্য ২১০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্পও একনেকের তালিকায় আছে।
