শৈলকুপায় এবার ৮৬ লাখ টাকার রেমিট্যান্স কম
রেমিট্যান্স
তাজনুর রহমান, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
এবারের ঈদুল ফিতরে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা। শৈলকুপার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা যায়। গত ঈদুল ফিতরে উপজেলার ছয়টি ব্যাংকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আসে দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা। এবার রোজার শুরু থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত এসেছে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমে গেছে।
সামগ্রিকভাবে এ বছর রোজায় শৈলকুপায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমলেও কোনো কোনো ব্যাংক গতবারের চেয়ে ভালো করেছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে। কবিরপুর শৈলকুপা শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ব্যাংকে এবারের ঈদে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৫ লাখ টাকা, যা গত ঈদে ছিল এক কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই ব্যাংকেই কম এসেছে ৭৬ লাখ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ অর্ধেকের কমে নেমে এসেছে।
ইসলামী ব্যাংক শৈলকুপা উপশাখায় ঈদ উপলক্ষে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩ লাখ টাকা, যা গত ঈদে এসেছিল ৭৯ লাখ টাকা। এ বিষয়ে উপশাখা ইনচার্জ চৌধুরী সাদেকুজ্জামান বলেন, যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ অনেকটা কম।
পূবালী ব্যাংক শৈলকুপা শাখায় রমজানের শুরু থেকে এসেছে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার টাকার রেমিট্যান্স, যা গত মাসে ছিল পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার। গত ঈদে এ শাখায় আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ জানা যায়নি। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মাজেদুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এবার ঈদে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কম।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শৈলকুপা শাখায় এবার রমজানের শুরু থেকে প্রবাসীরা ১০ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন, যা গতবার ছিল ৬ লাখ। ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভিন্ন দৈন্যদশা কাটানোর পর যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পেয়েছেন, তাতে তারা উৎসাহিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জনতা ব্যাংক শৈলকুপা শাখায়ও রেমিট্যান্স বেড়েছে। রমজানের শুরু থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা গত ঈদে ছিল ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হাসান আল মারুফ বলেন, রমজানের মধ্যে যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হতো তা হলে প্রবাসীদের পাঠানো টাকার পরিমাণ আরও বাড়ত। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রবাসীরাও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রূপালী ব্যাংক শৈলকুপা শাখা সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসের তুলনায় তাদের শাখায় প্রবাসীদের পাঠানো টাকার পরিমাণ বেড়েছে। শাখা ব্যবস্থাপক মমিনুর রহমান বলেন, গত এক মাসে দুই লাখ ১৮ হাজার টাকার রেমিট্যান্স এলেও রমজান উপলক্ষে এসেছে প্রায় ছয় লাখ টাকা।
এবারের ঈদে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কম থাকা প্রসঙ্গে শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবিদ আসাদ বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো টাকার পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনেক প্রবাসী বেতন পাচ্ছেন না। শত শত প্রবাসী ঈদে বাড়ি আসতে চেয়েছিলেন। ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় তারা আর বাড়ি আসতে পারছেন না। তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। অনেকে কাজ করতে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের বেতন বন্ধ থাকায় দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না। যুদ্ধে কয়েকজন প্রবাসী নিহতও হয়েছেন। যুদ্ধসহ আরও বিভিন্ন কারণে এবার ঈদে প্রবাসীদের পাঠানো টাকার প্রবাহ কমে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
- বিষয় :
- রেমিট্যান্স
