ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জে ধানসহ বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

কিশোরগঞ্জে ধানসহ বোরো  ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
×

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের প্রথম প্রহর থেকে মধ্যরাত এ শিলাবৃষ্টি হয়। এতে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির ধানসহ বোরো ফসল ও আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে হাওরের পাঁচ উপজেলা মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও পাকুন্দিয়ায়। চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলায় এক লাখ 
৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরোধানের আবাদ করা হয়েছে। 

পাকুন্দিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জহির রায়হান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে তিনটা পর্যন্ত হোসেন্দী ও চন্ডিপাশা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে গাছপালা ভেঙেছে। তাঁর ওয়ার্ডের কুমারপুর গ্রামটি লিচুর গ্রাম নামে খ্যাত মঙ্গলবাড়িয়ার পাশেই। কুমারপুরেও প্রচুর লিচু গাছ। প্রতিটি গাছেই লিচুর গুটি এসেছে। শিলাবৃষ্টিতে লিচু ও আমের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া এখন সবজি মাঠে করলা, চিচিংগা ও পটোলসহ কিছু শাকসবজি রয়েছে। এগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 
ইটনা সদর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, শিলাবৃষ্টিতে তাঁর ১০ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই ইউনিয়নের নয়াবাড়ি এলাকার কৃষক সোহাগ মিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট একর জমি। এসব কৃষকের অনেকেই ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলেন। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিজয় কুমার হালদার জানান, ইটনা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণের হাওরসহ বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছেন তিনি। প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার ৯৮৬ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, কিছু কিছু এলাকায় এখন ধানের শিষ বেরিয়েছে। এসব এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি বেশি হয়েছে। যেসব জমিতে এখনও শীষ বের হয়নি, নতুন করে শিলাবৃষ্টি না হলে সেসব জমির চারাগুলো আবার পুনর্গঠিত হতে পারে। 
শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসলের ক্ষতির প্রাথমিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ড. সাদিকুর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টিতে জেলার আট উপজেলায় মোট তিন হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মিঠামইনে আড়াই হাজার হেক্টর, ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর ও ভৈরবে ২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×