ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আ.লীগ নেতাকে তুলে নিয়ে রগ কেটে হত্যা

আ.লীগ নেতাকে তুলে নিয়ে রগ কেটে হত্যা
×

সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম শামীম। ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:১১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম শামীম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যভাটেরখিলের শ্বশুরবাড়ি থেকে তিনি অপহৃত হন। রাত ১টার পরে বেড়িবাঁধ তলতলা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল। এ ছাড়া মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার আবছারের বাড়ির আবুল মনসুরের ছেলে। তাঁর ভাই মো. সেলিমের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে শামীম দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অভাব-অনটনে দিন কাটছিলো তাঁর। বুধবার শামীমের স্ত্রী সীতাকুণ্ড বাজারে কিছু স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে মধ্যভাটেরখিল এলাকায় অবস্থিত বাবার বাড়ি যান। শামীমও এদিন সন্ধ্যায় সেখানে যান।

মো. সেলিম বলেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে মধ্যভাটেরখিলের মো. জাফর ও ইরানের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি শ্বশুরবাড়ি থেকে শামীমকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁকে কুপিয়ে ও রগ কেটে হত্যার পর লাশ বেড়িবাঁধ তলতলা নামক জায়গায় ফেলে যায়। রাত একটার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। শামীমের সঙ্গে জাফর-ইরানদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মো. জাফর ও ইরান বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সব কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এ কারণে তারা কোন পদে আছেন, তা জানাতে পারেননি কোনো নেতাই।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, শামীমের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলীও সীতাকুণ্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। শামীম আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা হলেও ভগ্নিপতির সঙ্গে এসব কাজে ছিলেন বলেও এলাকাবাসীর দাবি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, শামীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশে রাজি হননি। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

ওসি মহিনুল ইসলামের ভাষ্য, হত্যার শিকার ব্যক্তি বা হত্যাকারী, তাদের কোনো পক্ষেরই অতীত রেকর্ড ভালো নয়। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেই ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। রাত পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। 

আরও পড়ুন

×