গাছ না কেটে মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রক্ষা পাচ্ছে তিন হাজার ঝাউগাছ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩০ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সমুদ্রের গা ঘেঁষে চলে যাওয়া কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনায় ঝুঁকিতে পড়েছিল প্রায় তিন হাজার ঝাউগাছ। শেষ পর্যন্ত গাছ না কেটেই সড়ক প্রশস্ত করার নির্দেশনায় বদলে গেছে পুরো প্রকল্পের চিত্র। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে রক্ষা পেয়েছে বিপুলসংখ্যক গাছ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তৈরি হয়েছে নতুন দৃষ্টান্ত।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। পুরো মেরিন ড্রাইভ– কক্সবাজার থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। শুরুতে সড়ক প্রশস্ত করতে সড়কের দুই পাশের বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার পরিকল্পনা ছিল। এতে প্রায় তিন হাজার গাছ কাটা পড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এ তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন, একটি গাছও না কেটে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপরই সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশলে পরিবর্তন আনে। নতুন পরিকল্পনায় গাছ রেখে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ২১ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে গাছ রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, শুধু বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণই নয়, পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করতে সড়কের দুই পাশে নতুন করে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পর্যটকদের জন্য সড়কটি আরও আকর্ষণীয় হবে।
প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এতে সড়ক প্রশস্তকরণ ছাড়াও রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, কক্সবাজার অঞ্চলটি বন, পাহাড় ও সমুদ্রের সমন্বয়ে একটি সংবেদনশীল পরিবেশ অঞ্চল। এখানে পরিবেশগত সমীক্ষা ছাড়া বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, শুরুতেই সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ভবিষ্যতে এমন সম্প্রসারণের প্রয়োজন কমে আসত।
