স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর মারা গেলেন স্ত্রীও
প্রতীকী ছবি
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ১৯:৫৫ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ১৯:৫৫
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাইককান্দি গ্রামে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন পাইককান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তার খানের ছেলে ভ্যানচালক মিঠু খান (৫২)। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বেলা দুইটায় তাঁকে জানাজা শেষে পাইককান্দি গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে স্বামীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী হেনা বেগম (৪৫)। স্বামীর দাফনের পরপরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরুতে তাঁকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখান থেকে চিকিৎসক তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থান্তরিত করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে ছেলে ও ছেলের স্ত্রী মৃত্যুর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন মিঠুর মা ছালেহা বেগম (৭৫) এবং মিঠুর সাত বছর বয়সী নাতনি (৭)। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদ রনি জানান, মিঠু-হেনা দম্পতির এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের বাসিন্দারা তাদের এমন মৃত্যুতে ব্যথিত।
আরেক বাসিন্দা সাংবাদিক গোলাম মোর্তবা রিজু বলেন, ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে এই দম্পতির এমন আকস্মিক বিদায়ে পুরো গ্রামে এখন শোক চলছে। এমন মৃত্যুতে সবার মাঝে গভীর বিষাদ দেখা দিয়েছে।
মিঠু-হেনার একমাত্র সন্তান হাফিজুর রহমান জানান, তাঁর বাবার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই তাঁর মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বাবার মরদেহ যখন বাড়ি থেকে জানাজার জন্য বের করা হয় তখন তাঁর মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম খান আকরাম জানান, হেনা বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্বামী হারানোর প্রচণ্ড মানসিক আঘাতেই তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
