বিজিবির মামলার আসামি স্কুল কমিটির সভাপতি
মধ্যনগরের মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিজিবি সদস্যদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি মধ্যনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. সোহেল রানা। একটি চোরাচালান মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। কিন্তু তাঁকেই সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিতে। বিতর্কিত ব্যক্তিকে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
সোহেল রানা মধ্যনগর উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের সামনে টাঙ্গুয়ার হাওরে ট্রলার দিয়ে চোরাই গরু নিয়ে যাওয়ার সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে বিজিবির একজন সদস্য আহত এবং ওমর আলী (২২) নামে এক ট্রলারের শ্রমিক নিখোঁজ হয়। পরদিন ওমর আলীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বিজিবির বাঙালভিটা বিওপির সুবেদার সিগন্যাল মো. ইসরাইল খান বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিজিবি সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে জখম করা এবং চোরাই পথে ভারতীয় গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা এবং আসামিদের হেফাজতে রাখার অপরাধে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মধ্যনগর থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় মো. সোহেল রানাকে ২৯ নম্বর আসামি করা হয়।
গুরুতর মামলার আসামি হওয়ার পরেও মো. সোহেল রানাকে সভাপতি করে চলতি বছরের ৫ মার্চ অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের জন্য সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে সুপারিশ পাঠায় সংশ্লিষ্টরা। গত ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম মো. সোহেল রানাকে সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও অভিভাবক জানান, এই ব্যক্তি মামলার আসামি ছাড়াও নানাভাবে বিতর্কিত। এমন ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার অযোগ্য। তাঁর চেয়ে অনেক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি রয়েছে এ অঞ্চলে। তাঁকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে সভাপতি করার দাবি জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. সোহেল রানা বলেন, ‘যে রাতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই রাতে আমি এলাকায় ছিলাম না। পরে জানতে পারি, আমি এই মামলার আসামি। কিন্তু আমি এর সঙ্গে জড়িত না। আমার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিতও হয়নি।’ ওই মামলার চার্জশিট থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য সুনামগঞ্জ বিজিবির সিও মধ্যনগর থানার ওসিকে কয়েক মাস আগে চিঠি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মধ্যনগর থানার ওসি এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, চার্জশিট দেওয়া হয়নি। এখনও তদন্ত চলছে। সোহেল রানাকে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে বিজিবির কোনো চিঠি পেয়েছেন কিনা– জানতে চাইলে ওসি এ প্রতিবেদককে থানায় যেতে বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এমন ব্যক্তি সভাপতি হওয়ার সুযোগ নেই। তাঁকে (সোহেল) বাদ দিয়ে বোর্ডে নতুন নাম প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। মূলত ইউএনও জেলা প্রশাসককে সভাপতির জন্য তিনটি নাম প্রস্তাব পাঠান। জেলা প্রশাসক আবার সেই নামগুলো বোর্ডে পাঠালে সেখান থেকে একজনের নাম নির্বাচন করে অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন নতুন সভাপতির নাম প্রস্তাবনা পাঠানো হলে অনুমোদন দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- আসামি
