সুখের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল প্রবাসীর
রবিউল হাসান রবিন
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটু সুখের আশায় প্রবাসে গিয়েছিলেন রবিউল হাসান রবিন। কিন্তু সুখের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। দূর প্রবাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি। এখন কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় তাঁর লাশ।
নিহত রবিউল হাসান রবিন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। রবিনের তিন সন্তান রয়েছে। তাঁর বড় ছেলে মিহাদ হাসানের বয়স ১৫ বছর, মেয়ে রাইসার পাঁচ এবং ছোট ছেলে রোহানের বয়স দুই বছর।
জানা গেছে, সংসারের অভাব ঘোচাতে ও সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান রবিন। গত সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো সমস্যার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার স্তূপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। পরে লাশটি মর্গে নেওয়া হয়। রবিনের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত রবিনের গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, তাঁর তিনটা সন্তানের এখন কী হবে, কে চালাবে তাদের সংসার। তিনি জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় যান রবিন। প্রথমে শাহআলম এলাকায় কাজ করলেও ১৫ দিন আগে বুকিত জলিলে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। গত সোমবার সকালে জালাল ও সেন্টু নামে দুই ব্যক্তি ফোন করে জানান, রবিন কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। পরে এলাকার কয়েকজন প্রবাসী সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললে নানা অসংগতি ধরা পড়ে। তখন থেকেই সন্দেহ হয়, তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব? কীভাবে তাদের মানুষ করব?’ এই কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
প্রবাসে নিহত রবিনের লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে তাঁর পরিবার। রবিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং দ্রুত তাঁর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
রবিনের বড় ভাই খোকন বলেন, ‘গত সোমবার সকালে ফোনে জানতে পারি রবিন নিখোঁজ। পরে শুনি, কেউ তাকে হত্যা করে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখেছে। খবর শুনে আমাদের পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে, আমার ছোট ভাই তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
- বিষয় :
- প্রবাসী
