হাত ঘুরে সরকারি চাল ব্র্যান্ডের বস্তায়
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বুধবার বিকেলে জব্দ চালের একাংশ। ছবি: সমকাল
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ১৯:৪৩ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ১৯:৪৩
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদুর তৈরির একটি পরিত্যক্ত কারখানার গুদাম থেকে ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৭ (র্যাব)। বুধবার বিকেলে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জব্দ করা চালের পরিমাণ ৫৭৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ৫৯ মেট্রিক টন চাল ছিলো সরকারি বস্তায়। অন্য চালগুলো নানা ব্র্যান্ডের মোড়কে রাখা ছিলো।
এ সময় গুদামটির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আবদুল আজিজকে আটক করা হয়। তিনি পাশের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের বাসিন্দা। অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-৭ ও খাদ্য কর্মকর্তারা জানিযেছেন, নানা হাত ঘুরে সরকারি চাল চলে আসতো এখানে। তারপর শ্রমিকেরা এসব চাল নামিদামি নানা ব্র্যান্ডের বস্তায় ঢুকিয়ে বাইরে চালান করতেন।
র্যাবের হিসাবে, ওই গুদামে সরকারি চাল পাওয়া গেছে মোট ৫৮ টন ৭৫০ কেজি। এসব বস্তার ওপর লেখা রয়েছে ডাইরেক্টর জেনারেল অফ ফুড, মিনিস্ট্রি অফ ফুড। এ ছাড়া নূরজাহান ব্র্যান্ডের বস্তায় ৬৫ টন, চিংড়ি ব্র্যান্ডের ৭০ টন ও অন্যান্য খোলা বস্তায় ৩৮৫ টন চাল পাওয়া যায়।
র্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমাণ্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম বলেন, জব্দ ৫৭৮ টন চালের মধ্যে সরকারি বস্তায় প্রায় ৫৯ টন চাল পাওয়া যায়। এর আগেও অনেক চাল বিক্রি হয়েছে প্রশাসনের ধারণা। অভিযানে তারা একটি চালান বই উদ্ধার করেছেন। সেই বইয়ে সাতটি চালানের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে তিনটি চালানে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীর ফারুক ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ৭০২ বস্তা, বন্দরটিলার রিয়াজ স্টোরের বিপরীতে ১০০ বস্তা, কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী ইসমাইল সদাগরের অনুকূলে ৫০০ বস্তা চাল বিক্রি করা হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।
র্যাব-৭ হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার সাইফুল রহমান বলেন, এ প্রক্রিয়ায় একটি অসাধু চক্র জড়িত। এতে কারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা হবে। গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। জব্দ চাল পুলিশের জিম্মায় থাকবে। আপাতত পুলিশ নিয়মিত মামলা করবে। তারা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে বলেন, গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। এসব চাল কোন কোন পাইকারি আড়ত বা দোকানে যেতো– সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারি ডিলারদের নামের বরাদ্দ চাল নানা খাদ্য গুদাম থেকে এখানে নিয়ে আসা হতো। অথচ আটক ব্যক্তির কাছে সরকারি চাল বিক্রির লাইসেন্স নেই।
