সিআইডি তদন্তে ওলামা লীগ নেতার অনিয়মের তথ্য
সংগৃহীত
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ১৯:৫১
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ওলামা লীগের সভাপতি ও চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী খন্দকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার সিআইডি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কোরবান আলী মাদ্রাসার তহবিল থেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি মাদ্রাসা উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষ দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেছেন।
মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি আদালতে ২৭৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এতে দণ্ডবিধির ৪০৩, ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালে ইয়াকুব আলী খন্দকার চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। একই সময়ে উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। দীর্ঘদিন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৫ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান মুরশিদুল আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর হিসাবপত্র পর্যালোচনায় নানা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য সামনে আসে। পরে অধ্যক্ষ বাদী হয়ে ইয়াকুব আলী খন্দকার ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কোরবান আলীর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডিকে। পরে সিআইডির এসআই মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। তদন্ত শেষে গত ২৭ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা মাদ্রাসার তহবিল থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। উন্নয়ন কাজের নামে বিভিন্ন দপ্তরে সম্মানী বা ঘুষ দেওয়ার কথা বলে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার বাদী ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুরশিদুল আলম বলেন, ‘ইয়াকুব আলী অধ্যক্ষ হওয়ার পর প্রভাব বিস্তার করে দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর সহযোগী সাবেক সভাপতি কোরবান আলীকে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর হিসাবপত্র যাচাই করতেই অনিয়ম ধরা পড়ে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর চমকপুর গ্রামের হুমায়ুন কবির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন কর্মকর্তা শাজাহান সিরাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি পোড়ানোর অভিযোগেও ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। মিঠামইন থানার ওই মামলায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে ঘাগড়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইয়াকুব আলী খন্দকার বলেন, ‘ঘটনাটিকে নাটকে রূপ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনাও মিথ্যা। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’
ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এলাকার মানুষের অনেক কষ্টের ফসল। এখন চেয়ারকেন্দ্রিক বিরোধে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দলাদলি ভুলে শিক্ষার মানোন্নয়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।’
