ফেসবুক লাইভে লোক জড়ো করে বন কার্যালয়ে হামলা
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বনরক্ষীদের গুলিতে নিহত আমিনুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। একই দিন তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। তবে আমিনুরের মৃত্যু ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে গ্রামবাসীর হামলার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলার আগে স্থানীয়দের উস্কানি দেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের গাবুরা ইউনিয়ন সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ফেসবুক লাইভে সবাইকে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। প্রায় সাত মিনিটের বক্তব্যে তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমিনুর হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা বন বিভাগের অফিসের সামনে লাশ নিয়ে অবস্থান করব।’
নীলডুমুর গ্রামের আব্দুল মালেক ও ফয়সাল হোসেন জানান, হামলাকারীরা রেঞ্জ অফিসে ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলে। এরপর জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হামলার নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। হামলায় সরাসরি অংশ নেন গাবুরা ইউনিয়ন যুব বিভাগের আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত, সোরা এলাকার জামায়াত নেতা আবিয়ার রহমান, গাবুরা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জু গাজী, জামায়াত কর্মী রবিউল ইসলাম জোয়ারদার, ইউনিয়ন যুবদল নেতা রিপন। তাদের সঙ্গে ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির দিদারুল আলম, গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমানের ভাষ্য, হামলার পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। গুলিতে জেলের মৃত্যুর ঘটনা খুলনা রেঞ্জে। অথচ হামলা হলো সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে। মামলা করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যুব বিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, বনরক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে বনজীবীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। তাঁর প্রতিবেশী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ায় তিনি আবেগ সামলাতে না পেরে ফেসবুকে লাইভ করেছিলেন। ঘটনাস্থলে থাকলেও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছেন।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, বন বিভাগ মামলা করবে বলে জানালেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি। এ ছাড়া জেলে নিহতের ঘটনায় তাঁর পরিবার খুলনার কয়রা থানায় মামলা করতে গেছে।
- বিষয় :
- হামলা
