ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

এনজিওর প্রতারণায় শত শত পরিবার সর্বস্বান্ত

এনজিওর প্রতারণায় শত শত পরিবার সর্বস্বান্ত
×

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনব কৌশলে প্রতারণার জাল বিস্তার করে গাইবান্ধায় একের পর এক বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই ধরনের একাধিক প্রতারণা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সর্বশেষ বিনামূল্যে পাকা ঘর, নলকূপ ও গবাদিপশু দেওয়ার কথা বলে সহস্রাধিক পরিবারের কাছ থেকে অন্তত দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘আল আনসার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ নামের একটি কথিত সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা শহিদুল ইসলাম বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এতে গ্রামের দরিদ্র ও সহজ-সরল মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বগুড়া সদরের বাসিন্দা। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্য নারায়ণপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মাধ্যমে স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচিত হন। নিজেকে বড় একটি সংগঠনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
প্রথমে মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে কয়েকটি পরিবারকে নলকূপ স্থাপন করে দেন। পরে আরও কিছু নলকূপ বসিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেন। এরপর নতুন ‘প্যাকেজ’ ঘোষণা দেন; যাতে রয়েছে একটি আধাপাকা ঘর, একটি নলকূপ, একটি গাভি ও একটি ছাগল। এর বিনিময়ে পরিবারপ্রতি ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
মধ্য নারায়ণপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ঘরের শুধু চালা বসানো হয়েছে, কিন্তু কাজ বন্ধ। খোলাবাড়ি গ্রামের বজলার রহমান বলেন, ‘শহিদুল ইসলামের কথা বিশ্বাস করে ঘর পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন তিনি পলাতক। আমরা পথে বসে গেছি।’

জামেরতল গ্রামের সোহেল মিয়া বলেন, ‘বিশ্বাস করে বড় ভুল করেছি। এখন টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় দেখছি না।’
এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী স্থানীয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ আল আমীনও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর মাধ্যমে অন্তত ৩৬৬ জন ব্যক্তি টাকা দিয়েছেন, যার পরিমাণ প্রায় ৭৩ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘সচেতনতার অভাবেই মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন জরুরি।’
সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রতারক চক্র শনাক্তে কাজ চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শরীফ আল রাজিব বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×