প্রক্সি দিতে গিয়ে কারাভোগ, জামিন শেষে জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার
হারুন মিয়া, সেলিম মিয়া
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানব পাচার মামলার আসামি সেলিম মিয়ার পক্ষে প্রক্সি দিতে গিয়ে এক মাস ছয় দিন কারাভোগ করা হারুন মিয়াকে জামিন দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে অন্যের পক্ষে মিথ্যা হাজিরা দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করায় তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গত সোমবার এই আদেশ দেন নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে হারুন মিয়া জামিনে মুক্ত হলে পুনরায় তাঁকে কারাফটক থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা গেছে, মানবপাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালে রায়পুরা থানায় একটি মামলা হয়। এই মামলায় গত ১২ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন রায়পুরা উপজেলার মাহমুদ নগর এলাকার জামির, সেলিম ও ফাতেমা। তবে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পরে কারাকর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয় সেলিম নামে কারাগারে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সঠিক নয়। তিনি রায়পুরা উপজেলার মাহমুদ নগর এলাকার সামছু মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া। অর্থের বিনিময়ে সেলিম মিয়ার পক্ষে প্রক্সি দিতে আসেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। গত সোমবার মানবপাচার মামলার প্রকৃত আসামি সেলিম মিয়া আদালতে হাজির হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে তাঁর হয়ে প্রক্সি দিতে আসা হারুন মিয়াকে জালিয়াতি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাঁকে নরসিংদী জেলা কারাগারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে গ্রেপ্তার হারুন মিয়া বলেন, ‘আমার শ্যালক জামির মিথ্যা কথা বলে আমাকে আদালতে নিয়ে আসেন। এ সময় জামিন নামঞ্জুরের রায় শুনে পালিয়ে যায় সে। আর আদালত তাঁকে সেলিম ভেবে কারাগারে পাঠায়।’
ভুয়া আসামি দিয়ে হাজিরার ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শিরীন আক্তার শেলী জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এলে আদালতের কাছে পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। এরপর আদালতের নির্দেশে তাঁর পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। একজনের হয়ে অন্যজন সাজা ভোগ করবে বিষয়টি কাম্য নয়। প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে হারুনের বিচার হবে। কোনো আইনজীবীর গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেল সুপার তারেক কামাল জানান, আদালত থেকে বন্দিকে কারাগারে আনার পর নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করার সময় পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁর নাম লেখা হয় সেলিম মিয়া, পিতা জসিম উদ্দিন। তবে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর প্রকৃত নাম হারুন মিয়া এবং পিতার নাম সামসু মিয়া। পরে বন্দির দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, পরোয়ানায় উল্লিখিত নাম ও বন্দির দাবিকৃত পরিচয়ের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
- বিষয় :
- গ্রেপ্তার
