ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

বিভক্ত বিএনপির কার্যক্রম চলছে একজনে

বিভক্ত বিএনপির কার্যক্রম চলছে একজনে
×

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই সাড়ে তিন বছর। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে চলছিল দলীয় কার্যক্রম। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। এখন শুধু সভাপতি দিয়ে চলছে জেলা বিএনপি। কোন্দলের কারণে আজও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেক পুরোনো। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কোন্দল জেলা সদর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে। যার আঁচ লেগেছে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও। দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। পদ-পদবি না থাকায় হতাশ নেতাকর্মীরা। জেলা শহরে নেই কোনো দলীয় অফিস। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দলীয় কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতার নির্দেশমতো চলছেন। এতে জেলা বিএনপির কার্যক্রম ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে আহ্বায়ক ও মাহমুদুল হক সানুকে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। সব উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি করে তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য বলা হয়। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আহমেদ আযম খান আহ্বায়ক হলেও বাদ পড়েন সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ অন্যরা। এই ঘটনায় জেলা বিএনপির বিশাল একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়। আহমেদ আযম খানের নেতৃত্বে বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর কমিটি করে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন করা হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২২ সালের ১ নভেম্বর জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে হাসানুজ্জামিল শাহীন সভাপতি এবং ফরহাদ ইকবাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। হেরে যান সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আলী ইমাম তপন ও ছাইদুল হক সাদু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদুল হক সানু।
তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা থাকলেও সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। সম্মেলনের পাঁচ মাসের মধ্যে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান এবং তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বহিষ্কার হন শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান আলিম, যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, সদর থানা বিএনপির সহসভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরে আলম সাদেক, সদর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রানা আহমেদ, মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উত্তম, ছাত্রদলের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন রেফাতসহ 
৬০-৬৫ জন। নির্বাচনের পর জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়েছে। দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আন্দোলন করেছি। জেল-জুলুম সহ্য করেছি। হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি। দল ক্ষমতায়। এখন কোন পদে রয়েছি, তাঁর পরিচয় দিতে পারি না। যারা ১৭ বছর অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করে দলকে এতদূর এগিয়ে নিয়ে এসেছেন তাদের জন্য লজ্জার।’

জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় দলীয় কার্যক্রম ঠিকমতো চলছে না। পদ-পদবি না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ। জেলা শহরে দলীয় কার্যালয় নেই। একেকজন একেক কেন্দ্রীয় নেতার পেছনে ছুটছেন। এতে দলের ঐক্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে জেলা কমিটি গঠনের দাবি জানান।

জেলা বিএনিপর সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, আগের কমিটির এক বছর। বর্তমান কমিটির সাতে তিন বছর। সাড়ে চার বছর হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এক সভাপতি দিয়ে চলছে জেলার কার্যক্রম। দেশের কোথাও এমন নজির নেই। এই কমিটি দ্রুত ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবি জানান তিনি।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও টাঙ্গাইল আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক সাদু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানজ্জামিল শাহিনের ভাষ্য, দীর্ঘদিনেও কমিটি না হওয়ার পেছনে তাদের কোনো ব্যর্থতা নেই। কারণ ১৫১ সদস্যের কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন তারা। অদৃশ্য কারণে এখনও কমিটি হয়নি। তিনিও চান দ্রুত কমিটি হোক। দলে কোনো কোন্দল নেই, তবে প্রতিযোগিতা রয়েছে।

আরও পড়ুন

×