ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে কমেছে ১ লাখ ১৯ হাজার কোরবানির পশু

চট্টগ্রামে কমেছে ১ লাখ ১৯ হাজার কোরবানির পশু
×

​​​​​​​আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১৪:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম জেলা মহানগরে গত বছরের চেয়ে এবার গবাদি পশুর উৎপাদন কমেছে এক লাখ ১৯ হাজার ৬৯২টি। এর মধ্যে গরুর উৎপাদন কমেছে ৩৬ হাজার ৫৩৪টি, ছাগল ৫২ হাজার ৫৫৫টি, মহিষ ১৬ হাজার ৩২৯টি আর ভেড়া ১৪ হাজার ২৭৪টি। কোরবানির বাজারের ঘাটতি মেটাতে এবার মিয়ানমার দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা পশুর ওপর ভরসা রাখছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে সবচেয়ে কম কোরবানির পশুর উৎপাদন হয়েছে। গোখাদ্যের লাগামহীন দামসহ নানামুখী সংকটের কারণে পাঁচ বছরে বন্ধ হয়েছে পাঁচ হাজার খামার। তাই প্রাণিসম্পদ খাতে নেমে এসেছে দুর্যোগ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, প্রতিবছর চট্টগ্রামে চাহিদার চেয়ে কোরবানি পশুর সংকট থাকে। এবার ৩৫ হাজারের মতো কম আছে। তিন পাবর্ত্য জেলা, নোয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর কুষ্টিয়া এনে চট্টগ্রামের কোরবানি পশুর সংকট মোকাবিলাম করা হবে।

সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর জেলায় সাত লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা চার লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, যা গত বছর ছিল পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৩টি। ছাগল এক লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, গত বছর ছিল দুই লাখ ৫১ হাজার ৭৪টি। মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি, গত বছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩টি। ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি, গত বছর ছিল ৫৫ হাজার ৬৯৭টি।

চলতি বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা আট লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। গত বছর চাহিদা ছিল। লাখ ছয় হাজার ৭৪৭টি। এর আগে ২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল আট লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি, ২০২৩ সালে আট লাখ ৪২ হাজার ১৬৫ এবং ২০২২ সালে সাত লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি। সেই হিসাবে চলতি বছরের উৎপাদন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, চট্টগ্রামে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে প্রতিবছর অনেক খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন খামারিরা। পাঁচ বছরে পাঁচ হাজার খামার বন্ধ হলেও নতুন নতুন উদ্যোক্তা খামার করছেন। কিন্তু বন্ধ হওয়ার তুলনায় নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা কম। ছাড়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় খামারিরা গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্টকরণে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন কমার পেছনে মূল কারণ গোখাদ্য, ওষুধ শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়া। গোখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। গোখাদ্যের মধ্যে সয়াবিনের খৈল পাঁচ-ছয় মাস আগে ২৪০০-২৫০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৪০0-3500 টাকা। গমের ভুসি ১৫০০-১৬০০ টাকার স্থলে ১৮০০ টাকা হওয়ায় খামারির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ছাড়া আটা, কুঁড়া, ছোলার খোসা, সাদা লাল মোটরের খোসা, মুগডালের পাউডার- এসব খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, গোখাদ্যের দাম এক বছরের ব্যবধানে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। গোখাদ্য ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। এর খেসারত দিচ্ছেন ছোট খামারিরা। খরচ বাড়ার কারণে সামাল দিতে না পেরে অনেকে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশু উৎপাদনে।

কর্ণফুলীর গরু খামারি মো. আসাদ বলেন, খামারে প্রতিদিন গোখাদ্য বাজার থেকে কিনে খাওয়াতে হয়। তার সঙ্গে পশুর ভ্যাক্সিন, কৃমিনাশকসহ বিভিন্ন ওষুধের দাম বেড়েছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরে অতিরিক্ত তেল খরচ; সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ হয়েছে কয়েক গুণ। সে তুলনায় গরু বিক্রি করে আয় নেই। তাই বাধ্য হয়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চট্টগ্রামে ১৭ হাজার ৩১২টি ডেইরি ফার্ম গবাদি পশুর খামার ছিল। বর্তমানে এখন ১১ হাজার ৯৮৭টি ফার্ম খামার চালু আছে। দেড় বছর আগেও চট্টগ্রামে সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৫০০টি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধনযোগ্য খামার গড়ে তুলতে সর্বনিম্ন ৩টি গরু থাকতে হয়। গরু বা গবাদি পশুর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে খামারকে মূলত চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ডি-শ্রেণির খামারে থেকে ১০টি গবাদি পশু; সি-শ্রেণির খামারে ১১ থেকে ২০টি গবাদি পশু; বি-শ্রেণির খামারে ২১ থেকে ৫০টি গবাদি পশু; শ্রেণির খামারে ৫১ বা তার বেশি পশু নিয়ে খামার তৈরি হয়।

আরও পড়ুন

×